বিকেল গড়াতেই একে একে হাজির হলেন সাফা কবির, পার্থ শেখরা। ‘চা গরম’ আড্ডায় মাতলেন তাঁরা।
গতকাল রাজধানীর স্টার সিনেপ্লেক্সের এসকেএস টাওয়ার শাখায় চরকি অরিজিনাল ফিল্মটির প্রিমিয়ার ছিল। পরে রাত ১২টায় সিনেমাটি মুক্তি পায়। ‘চা গরম’ পরিচালনা করেছেন শঙ্খ দাশগুপ্ত। চরকি ও অক্সফাম ইন বাংলাদেশের যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত এই চলচ্চিত্রে সহায়তা করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন।
বিকেলে আমন্ত্রিত দর্শকের জন্য সিনেমাটি প্রদর্শিত হয়। চা–বাগানের মানুষের জীবনের প্রেক্ষাপটে নির্মিত এই ছবি দর্শকদের এক মানবিক গল্পের মুখোমুখি করেছে।
সিনেমায় আইরিন নামের এক তরুণ চিকিৎসক চরিত্রে অভিনয় করেছেন সাফা কবির, যিনি তাঁর চেনা গণ্ডির বাইরের এক জগতে প্রবেশ করেন এবং সেখানে চা–বাগানের জনগোষ্ঠীর সহনশীলতা, সংগ্রাম, হাস্যরস আর স্বপ্নের দেখা পান।
সাফা কবির বলেন, ‘“চা গরম” সেই সব মানুষের গল্প বলে, যারা প্রান্তিক হওয়া সত্ত্বেও অসাধারণ সাহসের পরিচয় দেয়। আইরিন চরিত্রে অভিনয় করে আমি বুঝেছি যে আমরা যখন নিজের জগতের বাইরে তাকাতে ব্যর্থ হই, তখন কত কিছু মিস করি। এই সিনেমা সহমর্মিতা ও সংহতির কথা বলে। আমার বিশ্বাস, সিনেমাটি দেখে দর্শকেরা এর আবেগী রেশ অনুভব করবেন।
পরিচালক শঙ্খ দাশগুপ্ত চা–বাগানকে কেবল দৃশ্যপট হিসেবে নয়, বরং একটি জীবন্ত জগৎ হিসেবে তুলে ধরার গুরুত্বারোপ করে বলেন, ‘কয়েক দশক ধরে বাংলাদেশের চা–বাগানগুলোকে চলচ্চিত্রে কেবল সুন্দর লোকেশন হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। “চা গরম”-এর মাধ্যমে আমরা ভেতরে গিয়ে তাদের জীবনযাত্রা, আচার-অনুষ্ঠান, আনন্দ ও বেদনাকে বোঝার চেষ্টা করেছি। আমরা যা পেয়েছি, তা আমাদের কল্পনার চেয়েও অনেক বেশি শক্তিশালী। এই চলচ্চিত্র তাদের মানবিকতা, মর্যাদা ও অপ্রকাশিত শক্তির প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা।’
সিনেমায় মিঠু চরিত্রে অভিনয় করেছেন পার্থ শেখ। তিনি বলেন, ‘গল্পের দর্শন লুকিয়ে আছে চা–পাতার মাঝেই। যেমন চা–গাছ বড় হওয়ার জন্য জায়গার প্রয়োজন হয়, মানুষের স্বপ্নগুলোও তখন বেড়ে ওঠে যখন তাদের উপড়ে ফেলা হয় না। চা গরম সেই নিঃশব্দ সংগ্রামের গল্প, যা দেখায় সাধারণ মানুষ যখন স্বপ্ন দেখার সাহস করে, তখন কী ঘটে।’
অক্সফাম ইন বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর আশীষ দামলে বলেন, ‘চা–শ্রমিকেরা বাংলাদেশের অর্থনীতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। তবু তাদের কথা খুব কমই শোনা যায়। “চা গরম” তাদের জীবন, স্বপ্ন, সংগ্রাম ও হাসিখুশি থাকার চেষ্টার একটি জানালা খুলে দিয়েছে। ছবি বানানোর এই প্রয়াসের মাধ্যমে আমরা আশা করি, দর্শকেরা কেবল একটি চলচ্চিত্রই দেখবেন না, বরং একটি জনগোষ্ঠীর মর্যাদা ও আকাঙ্ক্ষাকে জাতীয়ভাবে স্বীকৃতি দেবেন।’
নন্দিনীকে নিয়ে সব প্রশ্নের উত্তর মিলবে ‘চা গরম’–এসিনেমার শোর আগে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার জানান, তাঁরা ছবিটির সঙ্গে থাকতে পেরে আনন্দিত।
প্রথম আলোর নির্বাহী সম্পাদক সাজ্জাদ শরিফ বলেন, ‘পরিচালক হিসেবে শঙ্খের (দাশগুপ্ত) প্রতি আমার ভরসা আছে। আপনারা নিশ্চয়ই আনন্দ পাবেন ছবিটি দেখে। তিনি চরকি কমিশনিং কমিটিতে আছেন।’
শিল্পীদের মধ্যে আরও বক্তব্য দেন এ কে আজাদ সেতু, রেজওয়ান পারভেজ, সারাহ জেবীন অদিতি।
চলচ্চিত্রটির কাহিনি ও চিত্রনাট্য লিখেছেন সাইফুল্লাহ রিয়াদ। ছবিটির ভাবনা, গবেষণা ও প্রকল্প বাস্তবায়নের নেতৃত্বে ছিলেন অক্সফাম ইন বাংলাদেশের কমিউনিকেশনস অ্যান্ড অ্যাডভোকেসি প্রধান মো. শরিফুল ইসলাম। চলচ্চিত্রের অংশীদার হিসেবে যুক্ত রয়েছে রবি এবং রিভাইভাল টি।









Bengali (BD) ·
English (US) ·