চলতি মৌসুমে সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকার আম বাণিজ্যের আশা

৫ দিন আগে
আম উৎপাদনে প্রথম নওগাঁ জেলা। যেদিকে চোখ যায় শুধু আমের বাগান চোখে পড়ে। থোকায় থোকায় ঝুলে আছে হরেক জাতের আম। মাসখানেকের মধ্যে পরিপক্ক হয়ে বাজারে উঠবে গোপালভোগ, হিমসাগর, ল্যাংড়া, আম্রপালি, ব্যানানা, বারিসহ নানা জাতের আম। তাই বাগান পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন বাগান মালিক ও ব্যবসায়ীরা। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ বছর প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার কোটি টাকারও বেশি আম বাণিজ্যের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

জানা যায়, জেলার মধ্যে সাপাহার, পোরশা, পত্নীতলা ও নিয়ামতপুরে বাণিজ্যিকভাবে আমের উৎপাদন হয় সবচেয়ে বেশি। আর আম উৎপাদনে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ। আর তৃতীয় অবস্থানে রাজশাহী জেলা।


নওগাঁর আম ব্যবসায়ী আব্দুস সালাম বলেন, ‘পাঁচ বছর আগে ৩০ বিঘা জমিতে বাণিজ্যিকভাবে বিভিন্ন জাতের আমের বাগান করেছেন তিনি। তাই মাস দেড়েক আগে প্রতিটি বাগানে মুকুলে মুকুলে ছেয়ে ছিল। এখন ধীরে ধীরে আম পরিপক্ক হচ্ছে। মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে গুটি আম নামানো শুরু হবে। এরপর পর্যায়ক্রমে নামবে অন্য জাতের আমগুলো।’


চাঁপাইনবাবগঞ্জের ব্যবসায়ী সফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমের এই মৌসুমে প্রায় চার থেকে পাঁচ মাস তারা আড়ত নিয়ে আম বেচাকেনা করেন। এ অঞ্চলের অর্থনীতির চাকা সচল হয় আমকে ঘিরেই। বাগানগুলোতে তাই রাত দিন আমের পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন সবাই।’


আরও পড়ুন: কালবৈশাখীর তাণ্ডবে ঝরে পড়ছে আমের ‍গুটি


এ দিকে রাজশাহী চেম্বার অব কমার্সের সিনিয়র সহ-সভাপতি শামসুর রহমান শান্তনু জানান, এ বছর প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার কোটি টাকারও বেশি আমের বাণিজ্যের সম্ভাবনা রয়েছে। তাই এই অঞ্চলে আমসত্ত্ব, আচার, চকলেট, জুস তৈরির কারখানা গড়ে উঠলে ভালো দাম পাবেন ব্যবসায়ীরা।


আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা


১.নওগাঁ জেলায় ৩১ হাজার ৫০০ হেক্টর জমির বাগানে আম পাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৪ লাখ ৩০ হাজার মেট্রিক টন। জেলায় ২,৫০০ কোটি টাকার আম বিক্রি সম্ভাবনা রয়েছে।


২. চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৩৭ হাজার ৪৮৭ হেক্টর জমিতে আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে তিন লাখ ৮৬ হাজার মেট্রিক টন। জেলায় ২,০০০ হাজার কোটি টাকার আম বিক্রি সম্ভাবনা রয়েছে।


৩. রাজশাহী জেলায় ১৯ হাজার ১৮৮ হাজার হেক্টর জমির বাগানে ২ লাখ ৪৫ হাজার মেট্রিক টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। জেলায় ১,০০০ হাজার কোটি টাকার আম বিক্রির সম্ভাবনা রয়েছে।


খরায় আমের গুটি ঝরা


গেল দুই সপ্তাহ ধরে চলা খরায় আমের গুটি ঝরে পড়ছে। এতে কিছুটা দুশ্চিন্তায় রয়েছেন বাগান মালিকরা।


আরও পড়ুন: মুকুলে মুকুলে ভরে উঠেছে গাছ, মৌলভীবাজারে আমের বাম্পার ফলনের আশা


গুটি ঝরে পড়া রোধে রাজশাহী ফল গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. মোশাররফ হোসেন বুলবুল বলেন, ‘নিয়মিত বাগান ও গাছে সেচ দিতে হবে। এ ছাড়া হপার পোকা বা অন্য কোনো প্রকার আক্রমণ হলে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়ে কীটনাশক প্রয়োগ করতে হবে। তাহলে সমস্যাগুলো সমাধান হবে।’


গবেষণার সঙ্গে জড়িত এই কর্মকর্তা আরও জানান, এখন ফ্রুট ব্যাগিং করলে আমের গুণগত মানের ভালো‌ থাকে। আর এসব আম বিদেশে রফতানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব হবে।


আমের রাজধানী খ্যাত নওগাঁ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও রাজশাহী জেলায় ৮৮ হাজার ১৭৫ হেক্টর জমিতে ১০ লাখ ৬১ হাজার মেট্রিক টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে কৃষি বিভাগ।
 

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন