শনিবার (৩ জানুয়ারি) নগরের একটি হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের প্রস্তুতির সময় শিশুটির শারীরিক অবস্থার হঠাৎ অবনতি হয়। পরে দ্রুত তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হলেও ওইদিন রাতেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
মোস্তফার চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার পূর্ব গোমদণ্ডি গ্রামের আবু মুসার ছেলে।
শিশুটির বাবা আবুল মূসা মানিকের দাবি, কোনো পূর্ব-পরীক্ষা বা প্রয়োজনীয় শারীরিক চেকআপ ছাড়াই তাকে দ্রুত অপারেশন থিয়েটারে নেয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে পরে দ্রুত তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হলেও ওইদিন রাতেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন নিহতের স্বজনরা।
আরও পড়ুন: নেত্রকোনায় চিকিৎসকের অবহেলায় রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ, চিকিৎসক পলাতক
শিশুটির বাবা আর জানান, শনিবার সকালে ছেলেকে নগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতাল ভর্তি করানো হয়। বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে মোস্তফাকে সার্জারি কক্ষে নেয়া হয়। সন্ধ্যার দিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানান, শিশুটির অবস্থা আশঙ্কাজনক, তাকে দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করতে হবে। চমেকে নেয়ার পর মোস্তফাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে রাখা হয়। রাত ১০টার দিকে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মৃত্যুসনদে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধকে মৃত্যুর কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
আবু মুসার অভিযোগ, অ্যানেস্থেসিয়া ব্যবহারে ত্রুটির কারণেই শিশুটির মৃত্যু হয়েছে। না হয় খৎনার মতো একটি নিয়মিত চিকিৎসা প্রক্রিয়ায় সন্তানের প্রাণ হারানো এটা নেয়া অসম্ভব।
এর আগে গত বছরের ১৬ ডিসেম্বর মোস্তফাকে ওই চিকিৎসকের কাছে প্রথম দেখানো হয়। ব্যবস্থাপত্রে তার প্রস্রাবের রাস্তায় জন্মগত ত্রুটি ‘গ্ল্যানুলার হাইপোস্প্যাডিয়াস’ শনাক্ত করা হয়। সেখানে খৎনা ও ছোট পরিসরের একটি অস্ত্রোপচারের কথা উল্লেখ ছিল এবং জেনারেল অ্যানেস্থেসিয়া ব্যবহারের পরামর্শ দেয়া হয়।
আরও পড়ুন: নাটোরে চিকিৎসকের অবহেলায় নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ
শিশুটির মা সুমি আক্তারের অভিযোগ, এটি নিছক দুর্ঘটনা নয় চিকিৎসকের মারাত্মক অবহেলা ও ভুল প্রক্রিয়ার ফল, যা একটি পরিকল্পিত হত্যার শামিল।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন বলেন, ‘সাধারণত খৎনার সময় স্পাইনাল অ্যানেস্থেসিয়া দেয়া হয় এবং এতে খুব কম ক্ষেত্রেই জটিলতা দেখা দেয়। তবে এই ঘটনায় কী ঘটেছে, তা বিস্তারিত তদন্ত ছাড়া বলা সম্ভব নয়।’
বোয়ালখালী উপজেলার আপেল আহমদসংলগ্ন গোয়াজ তালুকদার বাড়িতে এখন শোকের মাতম। পরিবার এই ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার ও অভিযুক্ত চিকিৎসকের দ্রুত গ্রেফতার দাবি করেছে।

২ দিন আগে
২







Bengali (BD) ·
English (US) ·