ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত শহিদুল ইসলাম বগুড়া সদরের বৃন্দাবন পাড়ার আকবর আলীর ছেলে। তিনি গাইবান্ধা সদর উপজেলার বল্লমঝাড় ইউনিয়নের মধ্য নারায়ণপুর এলাকার একটি মহিলা মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আলামিনের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তুলে এলাকায় যাতায়াত শুরু করেন। নিজেকে একটি বড় সংগঠনের কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে তিনি সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করেন।
প্রতারণার শুরুতে শহিদুল ইসলাম মাত্র ২০০ টাকার বিনিময়ে দুটি পরিবারকে নলকূপ বসিয়ে দেন। এতে স্থানীয়দের মধ্যে বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি হয়। পরে আরও শতাধিক পরিবারের কাছ থেকে টাকা নিয়ে ১৫টি নলকূপ স্থাপন করেন। এরপরই তিনি বড় ধরনের প্রতারণার জাল ফেলেন।
নতুন প্যাকেজ হিসেবে তিনি ঘোষণা দেন, একটি আধা পাকা ঘর, একটি নলকূপ, একটি গাভি ও একটি ছাগল দেওয়া হবে। এর বিনিময়ে পরিবারপ্রতি ১৫ থেকে ২৫ হাজার টাকা দাবি করেন তিনি। ঘর পাওয়ার আশায় দরিদ্র মানুষরা কেউ গবাদিপশু বিক্রি করে, আবার কেউ চড়া সুদে ঋণ নিয়ে তার হাতে টাকা তুলে দেন। প্রমাণ হিসেবে দেওয়া হয় সংগঠনের সিলযুক্ত টোকেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, মধ্য নারায়ণপুর এলাকায় আটটি ঘরের শুধু চালা বসিয়েই কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় ভুক্তভোগী মঞ্জুয়ারা বেগম বলেন, ‘বাড়ি পাওয়ার আশায় হাঁস-মুরগি বিক্রি করে হুজুরকে টাকা দিয়েছিলাম। এখন তিনি টাকা নিয়ে পালিয়ে গেছেন।’
আরেক ভুক্তভোগী সোনাভান বেগম আক্ষেপ করে বলেন, ‘ধারদেনা করে টাকা দিয়ে এখন আমরা বিপদে পড়েছি। টাকার অভাবে এখন নিজের ভাঙা ঘরটাও মেরামত করতে পারছি না।’
আরও পড়ুন: অনলাইনে আর্থিক প্রতারণা: সতর্ক থাকতে বাংলাদেশ ব্যাংকের একগুচ্ছ নির্দেশনা
এই ঘটনায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে প্রতারিত হয়েছেন মাদ্রাসার অধ্যক্ষ হাফেজ আল আমীনও। তিনি জানান, তার মাধ্যমে ৩৬৬ জন ব্যক্তির টাকা শহিদুল ইসলামের হাতে গেছে। পাওনাদারদের চাপে এবং টাকা উদ্ধারের আশায় তিনি ইতিমধ্যে আদালতে মামলা করেছেন।
অভিযুক্ত শহিদুল ইসলামের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
গাইবান্ধা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. লোকমান হোসেন বলেন, ‘প্রলোভনের এমন ফাঁদ থেকে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
সদর উপজেলার পাশাপাশি পলাশবাড়ী ও ফুলছড়ি উপজেলাতেও একইভাবে কয়েক হাজার মানুষের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এই কথিত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।

১ ঘন্টা আগে
১








Bengali (BD) ·
English (US) ·