গোটা রাজধানী যেন পরিণত হয়েছিল খালেদা জিয়ার জানাজার ‌‘জায়নামাজে’

২ সপ্তাহ আগে
সারা দেশের মানুষকে শোকের সাগরে ভাসিয়ে শেষ বিদায় নিলেন ‘গণতন্ত্রের আপসহীন নেত্রী’, বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। স্বামী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পাশেই চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন তিনি। প্রিয় নেত্রীকে শেষ বিদায় জানাতে রাজধানীজুড়ে নেমে আসে মানুষের ঢল— যেন গোটা ঢাকাই পরিণত হয় জানাজার জায়নামাজে।

বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টার পর রাজধানীর শেরে বাংলা নগরের জিয়া উদ্যানে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বেগম খালেদা জিয়ার দাফন সম্পন্ন হয়। এর আগে বিকেল ৩টা ৫ মিনিটে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে অনুষ্ঠিত হয় তার জানাজা। জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি মোহাম্মদ আবদুল মালেক জানাজায় ইমামতি করেন।

 

সকাল থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা লাখো মানুষের উপস্থিতিতে জানাজাস্থল ও আশপাশের এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়। জাতীয় সংসদ ভবনের ভেতরের মাঠ, বাইরের প্রাঙ্গণ, পুরো মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ ছাড়িয়ে যায় জানাজার কাতার।

 

ধানমন্ডি-২৭, জাহাঙ্গীরগেট, বিজয় সরণি, ফার্মগেট, কারওয়ান বাজার, আগারগাঁও, পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠ, আসাদগেট, আড়ং মোড়সহ আশপাশের অলিগলিতেও মানুষ জানাজায় অংশ নেন। জায়গা না পেয়ে অনেককে মেট্রোরেল স্টেশন, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ও আশপাশের ভবনের ছাদ থেকেও জানাজায় শরিক হতে দেখা যায়।

 

বেগম জিয়ার জানাজা ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আবেগঘন প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। অনেক নেটিজেন একে বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ জানাজা বলে অভিহিত করেন।

 

আরও পড়ুন: দীর্ঘ ৪৪ বছরের ব্যবধানে আবারও মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি

 

বিএনপির মিডিয়া সেল জানায়, জানাজায় ৩২ দেশের কূটনৈতিক প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। তারা বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানান এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেন।

 

জানাজায় প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বাম পাশে দাঁড়ান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তার পাশে ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার ও নির্বাচন বিশেষজ্ঞ বদিউল আলম মজুমদার। ডান পাশে দাঁড়ান প্রধান বিচারপতি জুবায়র রহমান চৌধুরী, জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান, সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ নাজমুল হাসান ও বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান।উপদেষ্টামণ্ডলীর অন্যান্য সদস্য ও প্রেস সচিব শফিকুল আলমও জানাজায় অংশ নেন।

 

গত ২৩ নভেম্বর থেকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন বেগম খালেদা জিয়া। শারীরিক অবস্থা ছিল অত্যন্ত জটিল ও সংকটাপন্ন। চিকিৎসকদের সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর ভোর ৬টার দিকে ৮০ বছর বয়সে তিনি ইন্তেকাল করেন।

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন