গুলশানে রাজউকের ফ্ল্যাট নিয়ে লঙ্কাকাণ্ড!

৬ দিন আগে
গুলশানে রাজউকের বিলাসবহুল ফ্ল্যাট বাজারদরের অর্ধেক দামে প্রভাবশালী আমলা ও বিচারপতিদের বরাদ্দ দিয়ে রাষ্ট্রের ২৩০ কোটি টাকা ক্ষতির অভিযোগ উঠেছে। আওয়ামী লীগ আমলের এই ‘রূপসা প্রকল্পের’ অনিয়ম ও নেপথ্য সিন্ডিকেট ধরতে মাঠে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন।

রাজধানীর অভিজাত এলাকা গুলশান। যেখানে একটি ফ্ল্যাটের প্রতি বর্গফুটের বাজারমূল্য প্রায় ৩০ হাজার টাকা। অথচ রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) তা বিলিয়ে দিয়েছে নামমাত্র মূল্যে।

 

দুদকের অভিযোগ, ২০২৪ সালে বিচারক ও আমলাদের তুষ্ট করতে ৩ হাজার থেকে ৩৪০০ স্কয়ার ফিটের ৪৮টি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট বরাদ্দ দেয় শেখ হাসিনা সরকার। প্রতি বর্গফুটের মূল্য ধরা হয় মাত্র ১৪ হাজার ৫০০ টাকা। গুলশানের মতো এলাকায় এমন দরে ফ্ল্যাট দেয়ায় রাষ্ট্রের ক্ষতি হয়েছে অন্তত ২৩০ কোটি টাকা।

 

দুদকের অনুসন্ধান বলছে, ফ্ল্যাট সুবিধাভোগীদের তালিকায় রয়েছেন সাবেক বিচারপতি, আইজিপি থেকে শুরু করে সাবেক সচিব ও সাবেক সংসদ সদস্যরা। যেখানে একেকটি ফ্ল্যাটের বাজারমূল্য ৯ কোটি টাকা হলেও তারা পেয়েছেন অর্ধেক দামে। ফ্ল্যাট বরাদ্দে এই অনিয়মের বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে রাজউক চেয়ারম্যানকে চিঠি দিয়েছে দুদক।

 

দুদকের সহকারী পরিচালক তানজীর আহমেদ বলেন, ‘রাজউকের রূপসা প্রকল্পের আওয়ামী আমলা বিচারকদের কম দামে ফ্ল্যাট দেয়ার অভিযোগ ছিল। এর অনুসন্ধান শুরু হয়েছে। জড়িতদের বিষয়ে অনুসন্ধান শেষে প্রকৃত তথ্য উঠে আসবে।’

 

আরও পড়ুন: শেখ হাসিনার ১০, টিউলিপের ৪, রাদওয়ান ও আজমিনার ৭ বছর করে কারাদণ্ড

 

তিনি আরও বলেন, ‘এরইমধ্যে একটি এনফোর্সমেন্ট অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। যেখানে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতাও পাওয়া গেছে।’    

 

এই নগর পরিকল্পনাবিদ বলছেন, বিগত সরকারের মদদে একটি নির্দিষ্ট সিন্ডিকেটকে অবৈধ সুবিধা দিয়েছিল রাজউক।

 

নগর পরিকল্পনাবিদ আদিলুর রহমান বলেন, কারা প্লটগুলো পেয়ে থাকেন, বিশেষ করে বিগত সময়ে ক্ষমতার অপব্যবহার কারা করেছে এবং তাদের সঙ্গে রাজউকের কারা জড়িত ছিল তা জানা দরকার। সাধারণত রাজনৈতিক দলে কারা জড়িত ছিল বিভিন্ন সময়ে আমরা জনতে পেরেছি। কিন্তু রাজউকের কারা জড়িত ছিল, সেই চক্র নিয়ে কখনো কথা হয় না। আমলাতন্ত্রের ভেতরে এবং রাজউকের যারা রয়েছেন, এই চক্রটাকে উন্মোচন না করলে জবাবদিহিতা আসবে না।

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন