গলা ও পায়ের রগ কেটে যুবককে হত্যাচেষ্টা, হামলাকারীকে গণপিটুনি

১ সপ্তাহে আগে
ফরিদপুরে ইকবাল শেখ (৪৮) নামে এক যুবককে গলা ও দুই পায়ের রগ কেটে হত্যাচেষ্টার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টাকালে জিয়া মন্ডল (৫০) নামে অভিযুক্ত একজনকে ধরে গণপিটুনি দিয়েছেন স্থানীয়রা।

বুধবার (৪ মার্চ) রাতে জেলা সদরের চরমাধবদিয়া ইউনিয়নের আফজাল মন্ডলের হাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত ইকবাল শেখকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

 

আহত ইকবাল শেখ ওই ইউনিয়নের ওয়েজউদ্দীন ফকিরের ডাঙ্গী গ্রামের মৃত রশিদ শেখের ছেলে। অন্যদিকে, গণপিটুনির শিকার জিয়া মন্ডল পার্শ্ববর্তী আলিমউদ্দিনের ডাঙ্গী গ্রামের ওয়াহিদ মন্ডলের ছেলে। তাকে পুলিশি পাহারায় ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ট্রমা সেন্টারে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হামলাকারী জিয়া মন্ডল এলাকায় মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত। মাদক কারবার নিয়ে ইকবাল শেখের সঙ্গে তার দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। এই বিরোধের জেরে গত কয়েকদিন ধরে ইকবালকে হুমকি দেয়া হচ্ছিল। এরই ধারাবাহিকতায় তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে এই হামলা চালানো হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 

স্থানীয়রা জানান, বুধবার রাতে আফজাল মন্ডলের হাটের অদূরে একটি বাগানের ভেতর থেকে গোঙানির শব্দ শুনতে পান কয়েকজন। তারা সেখানে ছুটে গিয়ে ইকবাল শেখকে গলা ও পায়ের রগ কাটা অবস্থায় দেখতে পান। এ সময় তাদের চিৎকারে জিয়া মন্ডলসহ দুজন মোটরসাইকেলে করে পালানোর চেষ্টা করেন। স্থানীয়রা ধাওয়া দিলে মোটরসাইকেল নিয়ে সড়কের পাশে পড়ে গিয়ে জিয়ার পা ভেঙে যায়। তখন ক্ষুব্ধ জনতা তাকে গণপিটুনি দেয়। তবে তার সঙ্গে থাকা অপর ব্যক্তি পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।

 

আরও পড়ুন: ফরিদপুরে মাদক ব্যবসার দ্বন্দ্বে যুবককে কুপিয়ে হত্যা

 

মুমূর্ষু অবস্থায় ইকবাল শেখকে প্রথমে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। পরে রাতেই তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। 

 

বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সকালে আহতের ভাই রফিক শেখ মুঠোফোনে বলেন, ‘আমার ভাইয়ের অবস্থা ভালো নয়, প্রচুর রক্ত দেয়া লাগছে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাতেই তাকে পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক।’

 

এ বিষয়ে কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে হাসপাতালে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটির তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে প্রকৃত কারণ জানা যাবে এবং আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন