ভূরাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার বছরগুলোর পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, উচ্চ মূল্যস্ফীতির দেশগুলোতে ধারাবহিকভাবে ঋণের সুদ গুণতে হচ্ছে ৩৩ থেকে কখনো কখনো শতভাগ। আবার চীন, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, সৌদি আরব, ভারতের মতো দেশে ঋণের সুদের হার ২০২৩ সালের পর থেকে ওঠানামা করছে ২ থেকে সাড়ে ৭ শতাংশে।
বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় ২০২৪ সাল থেকে নীতি সুদহার ১০ শতাংশে স্থির রাখার ফলে বাংলাদেশে ব্যাংকে ঋণের সুদ বেড়েছে ১৬ শতাংশ বা তারও বেশি। বেড়েছে ব্যবসা পরিচালনা ব্যয়।
বিনিয়োগের মন্থরতা দূর করে সরকারের ১ কোটি কর্মসংস্থান তৈরিতে সুদের হারের শিথীলতা বা যৌক্তিকীকরণের উপায় খুঁজছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, ‘সব মেনে ব্যবসা করতে গেলে ১৫ শতাংশ রিটার্ন হওয়া কঠিন। তারওপর ১৫ শতাংশ যদি সুদ দিতে হয়, তাহলে লাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে টিকে থাকা দুস্কর। আবার লিকুইটি ক্রাইসিসে থাকা যেসব ব্যাংক রয়েছে, তারা ডিপোজিটের বিপরীতে সুদহার কমিয়ে ফেললে ডিপোজিট পাবে না।’
আরও পড়ুন: পোশাক শিল্পের সংকট নিরসনে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হস্তক্ষেপ চায় বিজিএমইএ
বিআইবিএম’র সাবেক মহাপরিচালক ড. তৌফিক আহমেদ চৌধুরীর মতে, রিজার্ভসহ কিছু সূচক ভালো অবস্থায় এগিয়ে থাকলেও মূল্যস্ফীতি আবারো ঊর্ধ্বমুখী। বৈশ্বিক যুদ্ধপরিস্থিতি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে না থাকলেও, সরকারের লক্ষ্য আর অর্জনে বড় বাধা হবে খেলাপি ঋণ।
আইবিএফবির সভাপতি লুৎফুন্নেসা সৌদিয়া খান বলেন, অনেকে ব্যক্তিগতভাবে ব্যাংক লোন নিয়ে অন্যজায়গায় চলে গেছেন। সবাই এমনটা করেনি। কিন্তু কিছু মন্দ ব্যবসায়ীদের জন্য পুরো শিল্পখাতকে চ্যালেঞ্জে ফেলা সমীচীন নয়।’
টেকসই বিনয়োগ ধরে রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের যেকোনো নীতিসহায়তা কার্যকর করতে একইসঙ্গে এক্সচেঞ্জ রেটে স্থিতিশীলতা ধরে রাখা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও কাঠামোগত সংস্কার এবং নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানিতে সরকারকে মনোযোগ দিতে হবে বলছেন সংশ্লিষ্টরা।
]]>
৪ সপ্তাহ আগে
৭








Bengali (BD) ·
English (US) ·