খামেনির মৃত্যুতে ইরানের নেতৃত্ব যাদের কাঁধে

৬ দিন আগে
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলায় দেশের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছে ইরান। তার মৃত্যুর পর একটি প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে, এ সংকটকালীন সময়ে দেশটিকে কারা নেতৃত্ব দেবেন?

ইরান জানিয়েছে, দেশের ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়া তদারক করবেন প্রেসিডেন্ট, বিচার বিভাগের প্রধান এবং একজন আইন বিশেষজ্ঞ।

 

সরকারি বার্তা সংস্থা আইআরএনএ জানিয়েছে, দেশের প্রেসিডেন্ট, প্রধান বিচারপতি এবং গার্ডিয়ান কাউন্সিলের একজন আইন বিশেষজ্ঞ নিয়ে গঠিত তিন সদস্যের একটি পরিষদ সাময়িকভাবে রাষ্ট্রের সব নেতৃত্বমূলক দায়িত্ব গ্রহণ করবে।

 

ইরানের বর্তমান প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, দেশটির নবম প্রেসিডেন্ট হিসেবে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে দায়িত্বগ্রহণ করেন তিনি। অন্যদিকে ইরানের প্রধান বিচারপ্রতি হিসেবে ২০২১ সালের জুলাই থেকে দায়িত্ব পালন করে আসছেন গোলাম হোসেন মোহসেনি এজেই। তবে  গার্ডিয়ান কাউন্সিল থেকে কে থাকছেন সে বিষয়ে বিস্তারিত জানা যায়নি। গার্ডিয়ান কাউন্সিল হলো ১২ সদস্যের একটি পরিষদ, যা ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানে ব্যাপক ক্ষমতা ও প্রভাব বিস্তার করে থাকে।

 

আরও পড়ুন: ইতিহাসের সবচেয়ে বিধ্বংসী হামলার হুঁশিয়ারি আইআরজিসির

 

এদিকে খামেনির মৃত্যুর খবর রোববার পাওয়া গেলেও তিনি হামলার শিকার হয়েছেন আগের দিন ভোরেই। ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল জানিয়েছে, শনিবার ভোরে তেহরানে নিজ কার্যালয়ে আয়াতুল্লাহ খামেনিকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়। এদিন তার বাসভবনের স্যাটেলাইট ছবি প্রকাশ করেছিল সংবাদমাধ্যম বিবিসি। স্যাটেলাইটে প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, খামেনির প্রাসাদটি ধসে পড়েছে। এটির চারপাশ কালো হয়ে গেছে। এতে বোঝা যাচ্ছে সেখানে বড় ধরনের বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে।

 

ইরানের আধা সরকারি বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজ জানিয়েছে, শনিবার ভোরে খামেনিকে তার কার্যালয়েই হত্যা করা হয়েছে। ওই সময় তিনি তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালনরত ছিলেন।

 

আরও পড়ুন: সুরক্ষিত ভবনে খামেনিকে কীভাবে হত্যা করা হলো?

 

ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার শাসন ব্যবস্থা চালু হয় ১৯৭৯ সালে ইসলামি বিপ্লবের পর থেকে। এক বিপ্লবের মাধ্যমে ইরানে রেজা শাহ পাহলভীর রাজতন্ত্রকে উৎখাত করা হয়। তাকে উৎখাতের পর ইরানে ধর্মীয় প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়।

 

এরপর দেশটি দুজন সুপ্রিম লিডার বা সর্বোচ্চ নেতা পেয়েছে। তাদের পদবী হিসেবে আয়াতুল্লাহ ব্যবহার করা হয়, শিয়া মতাবলম্বীদের কাছে যার অর্থ সিনিয়র ধর্মীয় নেতা। সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি দেশটির সামরিক বাহিনীর কমান্ডার-ইন-চিফ ছিলেন।

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন