খামেনি হত্যার পর মসজিদের উপরে ‘লাল পতাকা’ উত্তোলন করল ইরান, এর অর্থ কী?

৫ দিন আগে
মার্কিন ও ইসরাইলি বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর, ইরানের কেন্দ্রীয় ধর্মীয় শহর কোমের একটি প্রতিনিধিত্বমূলক মসজিদের উপরে প্রতিশোধের প্রতীক লাল পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে। এটিকে ইরানের অভ্যন্তরে কঠোর প্রতিক্রিয়ার ইঙ্গিত দেয়ার প্রতীকী পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ইরানি গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী,  কোমের জামকারান মসজিদের গম্বুজের উপরে একটি লাল পতাকা উত্তোলন করা হয়।

 

মসজিদের লাল পতাকা শহীদদের রক্তের প্রতিশোধ এবং ভয়াবহ যুদ্ধের আসন্নতার প্রতীক হিসেবে পরিচিত। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে যে এটি দেশে এবং বিদেশে শত্রুদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিশোধ এবং বিচারের জন্য দৃঢ় সংকল্পের একটি সতর্কতা হিসেবে কাজ করে।

 

আরও পড়ুন:খামেনির অনুপস্থিতি / ইরানের রাজনীতিতে ‘শক্তিশালী ব্যক্তিত্ব’ হতে পারেন আলী লারিজিনি

 

ইরানের রাষ্ট্র পরিচালিত প্রেস টিভি জানিয়েছে, ‘এই লাল পতাকাটি ইসলামী বিপ্লবের নেতার রক্তপাতের প্রতিশোধের প্রতীক।’

 

উত্তোলন অনুষ্ঠানে মসজিদের কর্মকর্তা এবং ধর্মগুরুরা খামেনির প্রতিকৃতি বহন করে অনুষ্ঠান পরিচালনা করেছিলেন বলে জানা গেছে।

 

২০২০ সালের জানুয়ারিতে ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এর কুদস ফোর্সের কমান্ডার কাসেম সোলাইমানি মার্কিন বিমান হামলায় নিহত হওয়ার পর জামকারান মসজিদের উপরে প্রথম লাল পতাকা উত্তোলন করা হয়েছিল। 

 

সেই সময়, এটি প্রতিশোধের প্রতীক হিসেবেও ব্যবহৃত হয়েছিল। 

 

প্রতিশোধের প্রতীক হিসেবে, লাল পতাকা তুলেছে ইরান। ইরানের ধর্মীয় তাৎপর্যপূর্ণ জামকারান মসজিদের গম্বুজের উপরে একটি লাল পতাকা তোলা হয়। তাদের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর, ন্যায়বিচার এবং প্রতিশোধের প্রতীক হিসেবে পতাকাটি উত্তোলন করা হয় বলে এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়।


বেশ কয়েকটি গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়ার সাথে সাথে কোম শহরের মসজিদের উপরে, লাল পতাকাটি খামেনির সমর্থকদের মধ্যে ক্ষোভ এবং প্রতিশোধের প্রতিফলন ঘটায়।

 

শনিবার ইরানে ইসরাইল-মার্কিন যৌথ হামলার সময় তেহরানে এক বিমান হামলায় খামেনি নিহত হন। রোববার ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমও একই কথা নিশ্চিত করেছে, যার ফলে বিশ্বজুড়ে প্রতিবাদ ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়।

 

এদিকে,  ইরান ৬৬ বছর বয়সী একজন ধর্মগুরুকে তিন সদস্যের নেতৃত্ব পরিষদে যোগদানের জন্য নির্বাচিত করেছে, যা নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত দেশ পরিচালনা করবে।

 

আরও পড়ুন:খামেনির মৃত্যুর পর ইরানের প্রেসিডেন্টকে পুতিনের চিঠি, কী লেখা আছে


শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল একযোগে ইরানে হামলা চালায়। চলমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনিসহ প্রায় শতাধিক নিহত হন। পরে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি লক্ষ্য করে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে হামলা চালায়। ইসরাইলেও ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে ইরান।  

 

 

 

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন