খাবার ও নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে মরিয়া মিয়ানমারের মানুষ

১ দিন আগে
মিয়ানমারে শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর এখন খাবার এবং নিরাপদ আশ্রয়ের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন বলে জানিয়েছে সাহায্যকারী দলগুলো। ভূমিকম্পে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পৌঁছানোর পর তারা এ কথা জানায়।

মঙ্গলবার (১ এপ্রিল) প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। 

 

শুক্রবার (২৮ মার্চ) স্থানীয় সময় দুপুরের দিকে আঘাত হানা ৭ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত ২০০০ জনেরও বেশি মানুষ মারা গেছেন। 

 

আরও পড়ুন:মিয়ানমারে ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা ২০০০ ছাড়াল, সাত দিনের শোক ঘোষণা

 

ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল মান্দালয়ের কাছাকাছি এলাকায় পৌঁছানোর পর সাহায্যকারী দলগুলোর মনে হয়েছে, বেঁচে যাওয়াদের জন্য এখন ব্যাপক মানবিক প্রচেষ্টার প্রয়োজন।


মান্দালয়ের একজন আন্তর্জাতিক উদ্ধার কমিটির (আইআরসি) কর্মী জানান, ‘ভূমিকম্পে বেঁচে যাওয়ার পর মানুষ এখন আফটারশকের আতংকে আছে এবং বাইরে রাস্তায় বা খোলা মাঠে ঘুমাচ্ছে। শহরগুলোতে নিরাপদ স্থানের সংকটে দুর্ভোগ চরমে উঠেছে। এ অবস্থায় তাঁবুর জরুরি প্রয়োজন। এদিকে যাদের ঘর অক্ষত রয়েছে তারাও ঘরের ভেতরে ঘুমাতে ভয় পাচ্ছেন।’

 

একজন বাসিন্দা জানান, দিনের বেলায় মানুষ ভবনের ভেতরে ফিরে যান কিন্তু রাতে ঘুমাতে সাহস পান না।

 

আইআরসি আরও জানিয়েছে, তাদের দলগুলো দেখেছে যে লোকেদের জরুরিভাবে চিকিৎসা সেবা, পানীয় জল এবং খাবারের প্রয়োজন।


এদিকে, মিয়ানমারে গৃহযুদ্ধ (যেখানে জান্তা ২০২১ সালে এক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করে) শতাব্দীর সবচেয়ে বড় ভূমিকম্পে আহত এবং গৃহহীনদের কাছে সাহায্যকারী দলগুলোর পৌঁছানোর চেষ্টা জটিল করে তুলেছে।

 

মান্দালয়ের একজন বাসিন্দা রয়টার্সকে জানিয়েছেন যে, পর্যাপ্ত সরঞ্জাম বা উদ্ধারকারী দল না থাকায়, স্থানীয়রা আফটারশকের আতংক নিয়ে ধ্বংসস্তূপ থেকে মৃতদেহ বের করার জন্য নিজেরাই প্রচেষ্টা চালিয়েছেন।

 

অন্যদিকে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, মিয়ানমারে নিহতের সংখ্যা ২,০৬৫ জনে দাঁড়িয়েছে। আহত ৩,৯০০ জনেরও বেশি এবং নিখোঁজ রয়েছেন কমপক্ষে ২৭০ জন। সামরিক সরকার সোমবার থেকে এক সপ্তাহব্যাপী শোক ঘোষণা করেছে।

 

এছাড়া যোগাযোগ নেটওয়ার্কের উপর জান্তার কঠোর নিয়ন্ত্রণ এবং ভূমিকম্পের ফলে রাস্তাঘাট, সেতু এবং অন্যান্য অবকাঠামোর ক্ষতি সাহায্য কর্মীদের জন্য চ্যালেঞ্জগুলো আরও তীব্র করে তুলেছে।

 

আরও পড়ুন:ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত, তবুও হামলা চালিয়ে যাচ্ছে মিয়ানমারের জান্তা বাহিনী!

 

শুক্রবার স্থানীয় সময় মিয়ানমারের মান্দালয়ের কাছে ৭ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্প হয়। দেশটিতে ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি প্রতিবেশি থাইল্যান্ডেও এর প্রভাব পড়ে। কম্পন অনুভূত হয় আরও কয়েকটি দেশে।

 

এ পর্যন্ত থাইল্যান্ডে ২০ জন মারা গেছেন বলে জানা গেছে।

 

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন