স্থানীয় বাজারে মূল্য স্থিতিশীল রাখা এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমদানিকারকদের অতিরিক্ত ব্যয় বহনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির সরকার।
দেশটির বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী ওসামা বুদাই এক মন্ত্রী পর্যায়ের সিদ্ধান্তে জানিয়েছেন, বিশেষ পরিস্থিতিতে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য আমদানিতে অতিরিক্ত পরিবহন বা সরবরাহ ব্যয় হলে তা সরকার বহন করবে। এর উদ্দেশ্য হলো সরবরাহ পথ ব্যাহত হলেও বাজারে পণ্যের ঘাটতি বা অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি যেন না ঘটে।
আরও পড়ুন:গাজায় মানবিক সহায়তা দিলো বাংলাদেশি ইয়ুথ অ্যালায়েন্স মালয়েশিয়া
সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়, সমুদ্র, স্থল বা আকাশপথে পণ্য পরিবহন ব্যাহত হলে আমদানিকারকদের অনেক সময় বিকল্প ও তুলনামূলক ব্যয়বহুল পরিবহন ব্যবস্থার উপর নির্ভর করতে হয়। এমন পরিস্থিতিতে সেই অতিরিক্ত খরচ সরকার সহায়তা হিসেবে প্রদান করবে।
এই সহায়তা মূলত নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। এর মধ্যে রয়েছে চাল, আটা, ডাল, ভোজ্য তেল, চিনি, হিমায়িত আস্ত মুরগি, টমেটো পেস্ট, শিশুখাদ্য, গুঁড়ো দুধ, বোতলজাত পানি এবং টিনজাত পণ্য যেমন শিম, ছোলা, টুনা, ভুট্টা ও মটরশুঁটি।
পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রয়োজনে এই তালিকায় আরও পণ্য যুক্ত করার ক্ষমতা মন্ত্রীর হাতে রয়েছে। তবে, সরকারি সহায়তা পেতে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোকে কয়েকটি কঠোর শর্ত পূরণ করতে হবে।
এর মধ্যে রয়েছে বৈধ বাণিজ্যিক লাইসেন্স থাকা, সরবরাহ শৃঙ্খলে বিঘ্নের কারণে ব্যয় বৃদ্ধির যাচাইযোগ্য প্রমাণ প্রদান করা এবং দেখাতে হবে যে এই ব্যয় বৃদ্ধি তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে ঘটেছে।
এছাড়া সহায়তা গ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে মজুদ থাকা পর্যন্ত খুচরা বাজারে পণ্যের দাম না বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিতে হবে। এ জন্য কোম্পানিগুলোকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ইলেকট্রনিক পোর্টালে আবেদন করতে হবে। চালানের তথ্য, ব্যয়ের তুলনামূলক হিসাব এবং সরবরাহ বিঘ্নের প্রমাণপত্র জমা দেয়ার পর একটি বিশেষ কমিটি তা যাচাই করবে।
পণ্য কুয়েতে পৌঁছানোর পর প্রকৃত ব্যয় যাচাই করে অর্থ পরিশোধ করবে কুয়েত সাপ্লাই কোম্পানি। কোনো অগ্রিম অর্থ প্রদান করা হবে না এবং পুরো প্রক্রিয়া কঠোর নিরীক্ষা ও তদারকির আওতায় থাকবে।
সরকার জানায়, আমদানিকারকদের নির্ধারিত মূল্য মেনে চলতে হবে এবং অনুমোদন ছাড়া ভর্তুকিপ্রাপ্ত পণ্য রপ্তানি করা যাবে না। মজুদ ও বিক্রির বিষয়ে নিয়মিত প্রতিবেদন দিতে হবে এবং কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনে পরিদর্শন পরিচালনা করবে।
কোনো অনিয়ম প্রমাণিত হলে সহায়তা বাতিল, অর্থ বাজেয়াপ্ত এবং আইনি ব্যবস্থা নেয়া হতে পারে। সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১০ মার্চ থেকে শুরু হওয়া চালানের ক্ষেত্রে এই সুবিধা কার্যকর হবে এবং আপাতত আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত তা বহাল থাকবে।
আরও পড়ুন:মালদ্বীপে বিএনপির উদ্যোগে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপিত
বিশ্লেষকদের মতে, অতীতেও বিভিন্ন আঞ্চলিক সংকটের সময় কুয়েত দ্রুত নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়ে বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হয়েছে। বর্তমান উদ্যোগও সেই ধারাবাহিকতার অংশ, যার মাধ্যমে সরকার স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে কোনো সংকটে দেশের খাদ্য সরবরাহ ও বাজার স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

২ সপ্তাহ আগে
৩







Bengali (BD) ·
English (US) ·