কেমন কাটছে জরুরি সেবাদানকারীদের ঈদ

১ দিন আগে
ঈদের খুশি প্রিয়জনের সঙ্গে ভাগাভাগি করতে নাড়ির টানে যখন বাড়ির পানে ছোটেন সারাদেশের মানুষ। সেখানে আবেগকে পেছনে রেখে কিছু পেশাজীবীদের ব্যস্ত থাকতে হয় জরুরি পরিষেবার কাজে। অন্যদের নির্বিঘ্নে ঈদ উদযাপন সহজ করতে কাজের মাঝেই যেন আনন্দ খুঁজে নেন তারা।

চিকিৎসক, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্য থেকে শুরু করে গণমাধ্যমকর্মীদের এই ত্যাগেই শহর থাকে নিরাপদ, হাতের মুঠোয় পৌঁছে দেন প্রতি মুহূর্তের তথ্য। কেমন কাটে তাদের এই উৎসবের দিন? 


সবাই যখন পরিবারের সঙ্গে উৎসব উদযাপনে ব্যস্ত, তখনও সাধারণ মানুষের সেবায় সময় কাটছে কিছু পেশার কর্মীদের। দায়িত্ব পালনই যেন তাদের উদযাপন- ঈদ আনন্দ।


ইচ্ছে তো থাকে সবারই ! কিন্তু ক'জন পারে প্রিয়জনের সঙ্গে এমন আনন্দ সব সময় ভাগাভাগি করতে!


নাগরিক নিরাপত্তায় যাদের সবচেয়ে বড় অবদান, সেই পুলিশ সদস্যরা প্রতিবারের মতো এবারও আড়ালেই রেখেছেন নিজেদের অনুভূতিগুলো।


আরও পড়ুন: ঈদের ছুটি কাটিয়ে চলাচল শুরু মেট্রোরেলের


দুজন পুলিশ বলেন, বাবা-মা, ভাই-বোন, আত্মীয়স্বজন আছে। মন খারাপ থাকলেও মেনে নিতে হয়। আমাদের এই কষ্টের কারণে মানুষ ভালোভাবে ঈদ উদযাপন করতে পারছে।


শুধু পুলিশ নয়, সেবা ও জরুরি কাজে দায়িত্বপ্রাপ্তরা কর্তব্য পালনের মধ্যেই যেন নিজেদের আনন্দ খুঁজে নেন।


এক চিকিৎসক বলেন, হাসপাতালে যে সমস্ত মুমূর্ষু রোগী থাকে তাদের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করার জন্য আমরা এই সেক্রিফাইস করে থাকি।


সেবাপ্রত্যাশীরাও এই সময়ে সেবা পেয়ে স্বস্তির কথা জানান। রোগীরা বলেন, ভেবেছিলাম ডাক্তার পাবো না, সেবা পাবো না। ডাক্তার-নার্স পেয়েছি, সেবা পেয়েছি।


ঝুঁকি নিয়ে প্রতিনিয়ত তথ্য সংগ্রহ ও তা সরবরাহের ব্যস্ত থাকতে হয় গণমাধ্যম কর্মীদের। বাদ যায় না উৎসবের দিনও। পরিজনহীন ঈদের আনন্দ খুঁজে নেন সহকর্মীদের সঙ্গে।


চ্যানেল ২৪ এর এক সাংবাদিক বলেন, অফিস হলো আমাদের সেকেন্ড হোম। সারা বছর যেমন অফিসকে মিস করি। তেমনি ঈদের দিন না আসলে অফিসকে মিস করি। নিউজ রুমে আমরা যারা এই সময় জরুরি দায়িত্ব পালন করি তাদেরকে নিয়ে আমাদের ছোট পরিবার হয়ে গেছে।


আরও পড়ুন: ঈদ শুভেচ্ছা জানিয়ে ভোটাধিকার ফেরাতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান খালেদা জিয়ার


সময় টেলিভিশনের সাংবাদিকরা বলেন, সহকর্মীদের সঙ্গে কাজের মধ্যে আনন্দ খুঁজে নিই।                                        

সাংবাদিকতা নারীদের জন্য বাড়তি চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায় উৎসবের দিনগুলোতে।


এক নারী সাংবাদকি বলেন, যে ঈদে আমরা অফিসে আসি না সেই ঈদে অফিসকে মিস করি। এক ঈদে অফিস করি। আরেক ঈদে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাই। এতেই আমরা অভ্যস্ত।


পরিবারে আনন্দে যেন ভাটা না পড়ে, সেজন্যই সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনে সচেষ্ট থাকে এসব পেশাজীবীরা।


এমন দায়িত্বের বোঝা মাথায় নিয়ে যারা কর্মস্থলে নিবেদিত প্রাণ, যারা দেশ ও দশের খুশির জন্য বিলিয়ে দেন নিজের আনন্দময় সময়, তারাই আসলে এগিয়ে নেন দেশ ও সমাজ। তাদের ত্যাগেই ঈদের খুশি হয় সর্বজনীন।

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন