ইরানের বিরুদ্ধে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ এখন মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্রে সীমাবদ্ধ নেই। এই সংঘাতের সবচেয়ে বড় আঘাত লেগেছে বিশ্ব অর্থনীতিতে। তেহরান বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ করে দিয়েছে। প্রতিদিন বিশ্ববাজারের প্রায় ২০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল এই পথ দিয়েই যায়। এখন সেই সরবরাহ বন্ধ।
আর এতে করে জ্বালানী তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১২০ থেকে ১৮০ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই যুদ্ধ লাগিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প বড় ধরনের রাজনৈতিক ফাঁদে পা দিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রোলের দাম ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ ভোটারদের ক্ষোভ এখন তুঙ্গে। ৬০ শতাংশ মার্কিনি এখন ট্রাম্পের এই যুদ্ধ নীতির বিরুদ্ধে।
আরও পড়ুন: উচ্চ-ক্ষমতার রকেট ইঞ্জিন পরীক্ষা /উত্তর কোরিয়া কি যুক্তরাষ্ট্রে হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে?
এছাড়া গ্লোবাল সাপ্লাই চেইন বা পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থায়ও ধস নামতে শুরু করেছে। জ্বালানির দাম বাড়ায় জাহাজ ও বিমান ভাড়া এখন আকাশচুম্বী। চাল থেকে শুরু করে কৃষি পণ্য সবই এখন বন্দরে আটকে আছে।
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল সতর্ক করেছে, এই যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশ্বব্যাপী মুদ্রাস্ফীতি আরও ১ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে যাবে, যা দরিদ্র ও উন্নয়নশীল দেশগুলোতে দুর্ভিক্ষের মতো পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।
গবেষকরা বলছেন, এ যুদ্ধে ভয়ংকর পরিবেশগত ও পারমাণবিক ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। কারণ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের পারমাণবিক এবং ক্ষেপণাস্ত্র কারখানাগুলোতে নিয়মিত হামলা চালাচ্ছে।
আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা এবং বিশেষজ্ঞরা আতঙ্কিত যে, নাতাঞ্জ বা বুশেহরের মতো স্থাপনায় বড় কোনো বিস্ফোরণ ঘটলে তেজস্ক্রিয়তা শুধু ইরানে নয়, বরং পুরো মধ্যপ্রাচ্য এবং এশিয়ায় ছড়িয়ে পড়তে পারে। আর এ ধরনের ঘটনা ঘটলে তা হবে ইতিহাসের অন্যতম বড় মানবসৃষ্ট পরিবেশগত বিপর্যয়।
আরও পড়ুন: ইরানে কয়েক সপ্তাহের স্থল অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র: রিপোর্ট
যুদ্ধের কারণে ইরান, লেবানন এবং গাজার লাখ লাখ মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাচ্ছে, যা নতুন করে কয়েক কোটি শরণার্থী তৈরি করেছে। ইউরোপ এবং প্রতিবেশী দেশগুলোতে শরণার্থীর এই ঢলে সামাজিকভাবে দেখা দিয়েছে বড় অস্থিরতা।
চলমান এই যুদ্ধ ইতোমধ্যেই বিশ্বকে দুই ভাগে ভাগ করে দিয়েছে। একদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল, অন্যদিকে রাশিয়া ও চীনের পরোক্ষ সমর্থনপুষ্ট ইরান। এই মেরুকরণ ‘তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের’ দিকে নিয়ে যেতে পারে বলেও আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
]]>
২ সপ্তাহ আগে
৬







Bengali (BD) ·
English (US) ·