৭২৫ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই বিশাল হ্রদে মাছ আহরণ করে জীবিকা নির্বাহ করেন ২৬ হাজারেরও বেশি জেলে। বর্তমানে হ্রদে কাচকি, চাপিলা, পাবদা ও আইড়সহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ প্রচুর পরিমাণে ধরা পড়ছে। রাতে আহরিত মাছ নিয়ে জেলেরা যখন প্রধান অবতরণ ঘাটে পৌঁছান, তখন পল্টুন জুড়ে শুরু হয় ব্যস্ততা। ওজন শেষে রাজস্ব মিটিয়ে এসব মাছ প্যাকেটজাত হয়ে চলে যাচ্ছে ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে।
মাত্র এক মাস আগেও চিত্রটি ছিল ভিন্ন। শীতে মাছ ধরা না পড়ায় আয় কমে গিয়েছিল জেলে ও ব্যবসায়ীদের। কাট্টুলি বিল থেকে মাছ নিয়ে আসা জেলে ছগির হোসেন বলেন, 'শীতে জালে খুব কম মাছ আসত, সংসার চালানো কঠিন হয়ে গিয়েছিল। এখন প্রত্যাশার চেয়ে বেশি মাছ পাচ্ছি, আমরা খুব খুশি।'
মাছ ব্যবসায়ী মো. মাহাফুজ হোসেন জানান, শীতের সময়টা অত্যন্ত বাজে কেটেছে। সরবরাহ কম থাকায় এবং মাছের গুণগত মান খারাপ হওয়ায় বড় ধরনের লোকসান গুনতে হয়েছে। তবে বর্তমানে মাছের সরবরাহ বাড়ায় সেই ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার স্বপ্ন দেখছেন ব্যবসায়ীরা।
কাপ্তাই হ্রদ ক্ষুদ্র মাছ ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দু শুক্কুর বলেন, 'এভাবে মাছ পাওয়া গেলে শীতের লোকসান কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে।'
আরও পড়ুন: ডিজেল সংকটে সমুদ্রে যেতে পারছেন না ৮০ শতাংশ জেলে, কমছে মাছের সরবরাহ
বিএফডিসি রাঙ্গামাটি শাখার ব্যবস্থাপক কমান্ডার মো. ফয়েজ আল করিম বলেন, এ বছর আমাদের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছিন। তবে এখন সেটা এখন কেটে গেছে। এবছর আমাদের মৎস্য অবতরণে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৮ হাজার ৫০০ মেট্রিকটন। ইতোমধ্যে আমাদের সব কয়টি কেন্দ্রে মাছ অবতরণ হযেছে ৮ হাজার ৩০০ মেট্রিক টন। যেখান থেকে রাজস্ব আদায়ে পরিমাণ ১৮ কোটি ৩৩ লাখ টাকা।
উল্লেখ্য, গত বছর ৮ হাজার মেট্রিক টন লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে মাছ আহরিত হয়েছিল ৮ হাজার ৯০০ মেট্রিক টন এবং রাজস্ব আদায় হয়েছিল ১৮ কোটি ৬০ লাখ টাকা। বিএফডিসি কর্তৃপক্ষ আশা করছে, বর্তমান ধারা বজায় থাকলে এ বছর গতবারের রেকর্ডও ছাড়িয়ে যেতে পারে।

১ দিন আগে
১








Bengali (BD) ·
English (US) ·