কমরেড মুকুল ছিলেন আপসহীন বিপ্লবী নেতৃত্বের অনন্য উদাহরণ

৪ ঘন্টা আগে
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট আন্দোলনের অন্যতম নেতা কমরেড আব্দুর রউফ মুকুলের আত্মত্যাগ ও তাত্ত্বিক নেতৃত্বকে অনন্য উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন বক্তারা। তারা বলেন, দীর্ঘ ৫৫ বছর চলৎশক্তিহীন অবস্থায় থেকেও তিনি মার্কসবাদ-লেনিনবাদ প্রতিষ্ঠায় তাত্ত্বিক ও প্রায়োগিক নেতৃত্ব দিয়ে বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, যা শুধু বাংলাদেশেই নয়, বিশ্ব কমিউনিস্ট আন্দোলনেও বিশেষভাবে স্মরণীয়।

শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবের কাজী নজরুল মিলনায়তনে আয়োজিত এক শোকসভায় এসব কথা বলেন বক্তারা। এটি আয়োজন করে জাতীয় কমিটি। এতে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ডা. এম. জাহাঙ্গীর হোসেন।


অনুষ্ঠানের শুরুতে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয় এবং প্রয়াত নেতার জীবনী পাঠ করেন তফাজ্জল হোসেন।


শোকসভায় বক্তারা বলেন, বর্তমান বিশ্বে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদসহ বিভিন্ন শক্তির আধিপত্য বিস্তারের প্রতিযোগিতা বিশ্ব পরিস্থিতিকে অস্থির করে তুলেছে। ইউক্রেন যুদ্ধ, ফিলিস্তিনে ইসরায়েলের আগ্রাসন এবং ইরানকে ঘিরে উত্তেজনা বিশ্বকে পারমাণবিক সংঘাতের ঝুঁকির দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এর পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরে অর্থনৈতিক সংকট, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, জ্বালানি সংকট ও বেকারত্ব বৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছে। এ অবস্থায় শ্রমিক-কৃষকভিত্তিক রাষ্ট্র ও সরকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম জোরদারের আহ্বান জানান তারা।


বক্তারা কমরেড আব্দুর রউফের সংগ্রামী জীবনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বলেন, তিনি ছিলেন বাংলাদেশের বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টির (মার্কসবাদী-লেনিনবাদী) সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও পলিটব্যুরোর সদস্য। ১৯৫১ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার ফারাকপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তিনি।


আরও পড়ুন: আর শোকগাঁথা নয়, গণতান্ত্রিক মানুষের বিজয়গাঁথা রচনা করতে হবে: তারেক রহমান


ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হয়ে ব্যক্তিগত জীবন ও ক্যারিয়ারের সুযোগ ত্যাগ করে বিপ্লবী আন্দোলনে নিজেকে নিয়োজিত করেন। ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান ও মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ১৯৭১ সালে যুদ্ধে আহত হয়ে প্যারালাইজড হলেও পরবর্তী সময়ে শারীরিক সীমাবদ্ধতা উপেক্ষা করে রাজনৈতিক ও তাত্ত্বিক নেতৃত্ব দিয়ে গেছেন। বক্তারা আরও বলেন, মতাদর্শিক সংগ্রামে তিনি সংশোধনবাদ ও উগ্র জাতীয়তাবাদের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নেন এবং আন্তর্জাতিকতাবাদী ধারার পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। দীর্ঘদিন বিভিন্ন জটিল রোগে ভোগার পর নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে গত ৫ ফেব্রুয়ারি ৭৫ বছর বয়সে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। ৮ ফেব্রুয়ারি জাতীয় প্রেসক্লাবে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে খুলনায় তাকে দাফন করা হয়।


শোকসভায় আরও বক্তব্য দেন বিভিন্ন রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতারা। সভা পরিচালনা করেন শাহজাহান কবির ও প্রকাশ দত্ত।

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন