জয়টা যে বড্ড বেশি দরকার ছিল, লিগ শিরোপা জিততে হলে তিন পয়েন্ট চাই-ই চাই। তবে এভারটনও কী ছেড়ে দেয়ার পাত্র? ঘরের মাঠে সিটিজেনদের এত সহজেই জিততে দেবে, তা কি করে হয়। শেষ পর্যন্ত সত্যি সত্যিই সিটিকে আর জিততে দিলো কোথায়!
৩৫ ম্যাচে আর্সেনালের পয়েন্ট ৭৬, যথারীতি শীর্ষেই আছে গানাররা। অন্যদিকে ৩৪ ম্যাচে ম্যানচেস্টার সিটির পয়েন্ট ৭১, এভারটনের বিপক্ষে জিততে পারলে আর্সেনালের সঙ্গে ব্যবধান আরও ২ পয়েন্ট কমে আসতো। সেক্ষেত্রে গানাররাও থাকতো চাপে, পরের ম্যাচে পা হরকালেই শিরোপা জেতার সুবর্ণ সুযোগটাও চলে আসতো সিটির হাতে।
প্রতিপক্ষের মাঠে ম্যাচের শুরুতেই আক্রমণাত্মক ছিল সিটি। ১৬তম মিনিটে নিকো ও’রাইলির কাটব্যাক থেকে আর্লি হলান্ড শট নিলেও এভারটনের রক্ষণ তা ঠেকিয়ে দেয়। মাত্র দুই মিনিট পর আবারও প্রায় একই জায়গা থেকে ও’রাইলি নিজেই চেষ্টা করেন, তবে ফলাফল থাকে একই— বল আটকে যায় ডিফেন্সে।
আরও পড়ুন: রাফিনিয়ার জন্য ১৩০০ কোটি টাকার প্রস্তাব পায়ে ঠেলবে কি বার্সেলোনা?
কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে আবারও সুযোগ তৈরি করে সিটি। হায়ান চেরকির জোরালো শট এভারটনের গোলরক্ষকের বুকে লেগে ফিরে আসে, আর রিবাউন্ড থেকে অ্যান্টোয়ান সেমেনিওর প্রচেষ্টা দূরের পোস্ট ঘেঁষে বাইরে চলে যায়।
৩২তম মিনিটে পাল্টা আক্রমণে দারুণ সুযোগ পায় এভারটন। মেরলিন রুরলের ক্রসে ঝাঁপিয়ে পড়ে সামান্য দিক পরিবর্তন করেন জানলুইজি দোন্নারুম্মা, এরপর ফিরতি বলে বেতোর শট শরীর দিয়ে ঠেকিয়ে দেন আব্দুখোদি কুজানভ। এর সাত মিনিট পর ভালো জায়গা থেকেও লক্ষ্যভেদ করতে ব্যর্থ হন চেরকি।
৪৩তম মিনিটে অবশেষে এগিয়ে যায় সিটি। চেরকির পাস থেকে ডি-বক্সের সামনে বল পেয়ে সময় নিয়ে বাম পায়ের আড়াআড়ি শটে জালে পাঠান জেরেমি দোকু।
প্রথমার্ধে রক্ষণাত্মক খেললেও বিরতির পর আক্রমণে ঝাঁপিয়ে পড়ে স্বাগতিকরা। ৬০তম মিনিটে ইলিমান এনজাইয়ের শক্তিশালী শট দারুণ দক্ষতায় কর্নারের বিনিময়ে ঠেকান দোন্নারুম্মা— এটাই ছিল এভারটনের প্রথম অন-টার্গেট শট।
আরও পড়ুন: নেইমার কি তবে ব্রাজিল ছেড়ে আর্জেন্টিনার ক্লাবে যোগ দেয়ার কথা ভাবছেন?
দুই মিনিট পর আরও বড় সুযোগ পান এনজাই, তবে একা পেয়ে গিয়েও ইতালিয়ান গোলরক্ষককে পরাস্ত করতে পারেননি তিনি। অসাধারণ রিফ্লেক্সে বল গ্লাভসে ভরেন দোন্নারুম্মা। শেষ পর্যন্ত ৬৮তম মিনিটে সমতা ফেরায় এভারটন, মার্ক গেয়ির ভুলের সুযোগ নিয়ে সহজেই গোল করেন বেরি। এরপর ৭৩তম মিনিটে জেমস গার্নারের নিখুঁত ক্রসে হেড করে দলকে এগিয়ে দেন ও’ব্রায়েন।
দুই মিনিট পর ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ পেয়েও ব্যর্থ হন এনজাই। তবে ৮১তম মিনিটে আর ভুল করেননি বেরি— রুরলের পাস থেকে সহজেই নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন তিনি। এরপরই ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করে সিটি। দ্রুত জবাব দেন আর্লিং হলান্ড, থ্রু বল ধরে ডি-বক্সে ঢুকে চিপ শটে ব্যবধান কমান তিনি।
যোগ করা সময়ের সপ্তম মিনিটে নাটকীয়ভাবে সমতা ফেরান দোকু। কর্নারের পর ডি-বক্সের সামনে বল পেয়ে বাঁকানো শটে দূরের পোস্ট দিয়ে জালে জড়ান তিনি। এই ড্রয়ে পরাজয় এড়ালেও পুরো তিন পয়েন্ট না পাওয়ায় শিরোপার দৌড়ে এগিয়ে গেলো মিকেল আর্তেতার দল।
]]>
১ দিন আগে
২








Bengali (BD) ·
English (US) ·