এখনই মাথা এত গরম থাকলে চৈত্র এলে কী করবেন, জামায়াত আমিরের প্রশ্ন

৪ সপ্তাহ আগে
নির্বাচন ঘিরে দেশের বিভিন্ন স্থানে সহিংসতা ও হানাহানির ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, একদিকে ফ্যামিলি কার্ড দেয়া হচ্ছে, অন্যদিকে মা-বোনদের গায়ে হাত তোলা হচ্ছে। হামলার সঙ্গে জড়িতদের উদ্দেশে তিনি প্রশ্ন রেখে বলেছেন, এখনই যদি মাথা এত গরম থাকে, চৈত্র এলে কী করবেন?

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) খুলনা সার্কিট হাউস মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

 

জামায়াত আমির হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘আমরা পায়ে পা দিয়ে ঝগড়া করতে চাই না। তবে কেউ ঝগড়া করতে এলেও ছেড়ে কথা বলব না।’ আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে একটি বড় দল ঝগড়া করতে চাইছে জানিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

 

ফ্যামিলি কার্ড বা বেকার ভাতা নয়, জামায়াত ক্ষমতায় গেলে সবার জন্য কাজের ব্যবস্থা করবে বলে জানান ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ‘আমরা যুবকদের হাতে বেকার ভাতা তুলে দিয়ে অপমান করতে চাই না। আমরা তাদের হাতে কাজ তুলে দিতে চাই। কর্মসংস্থানের মাধ্যমে যুবসমাজকে সম্মানিত করতে চাই।’ জুলাই বিপ্লবে যুবসমাজের ভূমিকার কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে সেই অবদানের ঋণ কিছুটা হলেও শোধ করতে চান তারা।

 

আরও পড়ুন: ক্ষমতায় গেলে ২ বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে কাজের অঙ্গীকার করলেন জামায়াত আমির

 

খুলনার শিল্প ও কৃষি ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় দুঃখ প্রকাশ করে জামায়াত আমির বলেন, বিগত সরকারের ভুল নীতি ও লুটপাটের কারণে একের পর এক শিল্পকারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। জামায়াত আল্লাহর ইচ্ছা ও জনগণের রায়ে রাষ্ট্রক্ষমতায় এলে বন্ধ মিল-কারখানা চালুর পাশাপাশি নতুন শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হবে।

 

দুপুর ২টা থেকে শুরু হওয়া জনসভায় সভাপতিত্ব করেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও খুলনা মহানগর আমির অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান। জনসভাকে কেন্দ্র করে গোটা নগরীতে জনসমাগম সৃষ্টি হয়। নির্ধারিত সময়ের আগেই সার্কিট হাউস মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়।

 

জনসভায় উপস্থিত সবাইকে ভোটের পাহারাদার হওয়ার আহ্বান জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, প্রতিটি নর-নারীর ভোটের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। ভোট যার যেখানে ইচ্ছা সেখানে দেবে, আমরা শুধু ভোটারকে বাক্স পর্যন্ত পৌঁছে দিতে চাই। তিনি আগামী ১৩ ফেব্রুয়ারি একটি ‘অভিশাপমুক্ত বাংলাদেশ’ গড়ার প্রত্যাশার কথাও জানান।

 

এ সময় তিনি দীর্ঘ ১৭ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনামলে এবং ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর লগি-বৈঠার ঘটনায় নিহত শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন। পাশাপাশি আহত, পঙ্গু, কারানির্যাতিত, গুমের শিকার ও দেশান্তরী হতে বাধ্য হওয়া সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

 

আরও পড়ুন: আইসিসিকে বাংলাদেশ নিয়ে সিদ্ধান্ত রিভিউর অনুরোধ জামায়াত আমিরের

 

জামায়াতের নেতাকর্মীদের ওপর অতীতে নির্যাতনের কথা উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ৫ আগস্টের পর প্রতিহিংসায় না গিয়ে দলের নেতাকর্মীরা পাহারাদারের ভূমিকা পালন করেছেন। এর মাধ্যমেই জনগণের কাছে প্রমাণিত হয়েছে, কারা দেশ ও মানুষের জন্য নিরাপদ। জামায়াত রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে মন্ত্রী-এমপিদের ব্যক্তিগত লাভ নয়, বরং বাংলাদেশকে মর্যাদাশীল ও শক্ত অর্থনীতির ওপর দাঁড় করানো হবে বলে তিনি ঘোষণা দেন।

 

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সন্ত্রাস, গুজব ও মিথ্যার মাধ্যমে কেউ কেউ জোর করে ক্ষমতায় যেতে চাচ্ছে। যারা দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও লুটপাটের রাজনীতিতে জড়িত, জনগণ তাদের আর ক্ষমতায় দেখতে চায় না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

 

আগামী নির্বাচনে জামায়াত দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পেলে ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে নতুন মানবিক বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার করেন মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি খুলনা অঞ্চলের জলাবদ্ধতা নিরসন, বিশেষায়িত হাসপাতাল আধুনিকায়ন, বন্ধ মিল-কারখানা চালু, পাইপলাইনে গ্যাস সরবরাহ, বন্দর নগরী খুলনায় আধুনিক বিমানবন্দর স্থাপন এবং বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনকে কেন্দ্র করে পর্যটন শিল্প বিকাশের প্রতিশ্রুতি দেন।

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন