বুধবার (২০ আগস্ট) বিকেল ৪টার দিকে কুয়াকাটা সৈকতের পূর্বদিকে ট্যুরিজম পার্ক পয়েন্ট এলাকায় ডলফিনটি দেখতে পান স্থানীয়রা।
উপকূল পরিবেশ রক্ষা আন্দোলন (উপরা)-এর আহ্বায়ক কে এম বাচ্চু বলেন, ‘আগের তুলনায় ডলফিন মৃত্যুর সংখ্যা কমলেও এখনও নিয়মিত এমন খবর পাওয়া যাচ্ছে। আমরা চাই সরকার ও সংশ্লিষ্ট গবেষণা সংস্থা এ মৃত্যুর কারণ নিয়ে আরও গভীরভাবে অনুসন্ধান করুক। ডলফিন শুধু সমুদ্রের প্রাণী নয়, এটি সমুদ্রের স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত ভারসাম্যের গুরুত্বপূর্ণ সূচক।’
আরও পড়ুন: কুয়াকাটা সৈকতে আবারও ভেসে এলো মৃত ডলফিন
কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও কুয়াকাটা পৌর প্রশাসক ইয়াসীন সাদেক বলেন, ‘ডলফিন রক্ষা কমিটির সদস্যদের কাছ থেকে খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করি। পরিবেশের ক্ষতি না হয়, সে লক্ষ্যে বন বিভাগকে মৃত ডলফিনটি মাটিচাপা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’
এদিকে কুয়াকাটা-সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে ডলফিন সংরক্ষণে কাজ করছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘কুয়াকাটা ডলফিন রক্ষা কমিটি’।
সংগঠনটির টিম লিডার রুমান ইমতিয়াজ তুষার বলেন, ‘বিকেলে সৈকতের ট্যুরিজম পার্ক পয়েন্টে ইরাবতী প্রজাতির মৃত ডলফিনটি ভেসে উঠেছে। আমাদের সদস্য কে এম বাচ্চু বিষয়টি আমাদের জানালে তাৎক্ষণিকভাবে পৌরসভা ও বন বিভাগকে অবহিত করি। গত ৮ বছর ধরে আমরা ডলফিন মৃত্যুর কারণ উদঘাটনের জন্য সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার কাছে আবেদন জানিয়ে আসছি, কিন্তু এখনো কোনো নির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।’
আরও পড়ুন: কুয়াকাটায় ধরা পড়ল ২৪ কেজির কোরাল, বিক্রি কত দামে?
বনবিভাগের মহিপুর রেঞ্জ কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান বলেন, ‘খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের টিম ঘটনাস্থলে গেছে। ডলফিনটি যাতে দুর্গন্ধ ছড়াতে না পারে, সে জন্য দ্রুত মাটিচাপা দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কুয়াকাটা-সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে ডলফিনের মৃত্যু শুধু জীববৈচিত্র্যের জন্য হুমকি নয়, বরং সামুদ্রিক পরিবেশের ভারসাম্যও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
]]>