এআই দিয়ে লেখা হলো জাতীয় এআই নীতিমালা, ধরা পড়ার পর প্রত্যাহার!

৫ দিন আগে
দক্ষিণ আফ্রিকা সরকার সম্প্রতি প্রকাশিত জাতীয় এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) নীতির খসড়া প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। জানা গেছে, খসড়া নীতিমালার তথ্যসূত্রের তালিকায় কিছু গবেষণা ভুয়া বলে প্রমাণিত হয়েছে এবং ধারণা করা হচ্ছে, সেগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে ভুলভাবে তৈরি করা হয়েছিল। এরপরই এই খসড়া নীতিমালাটি প্রত্যাহার করে নেয়া হয়।

দক্ষিণ আফ্রিকার যোগাযোগ ও ডিজিটাল প্রযুক্তি বিভাগ (ডিসিডিটি) চলতি মাসের শুরুতে খসড়া এআই নীতিমালা প্রকাশ করে। এর কিছুদিন পর স্থানীয় সংবাদমাধ্যম নিউজ২৪ এক প্রতিবেদনে জানায়, এআই নীতির ডকুমেন্টটি তারা বিশ্লেষণ করে দেখেছে, এতে ৬৭টি একাডেমিক উদ্ধৃতি যুক্ত করা হয়েছে। এসব উদ্ধৃতি বিভিন্ন জার্নালে প্রকাশ করা হয়েছে এবং সেখান থেকে এগুলো নেয়া হয়েছে।

 

তবে পরীক্ষা করে দেখা গেছে এই ৬৭টি উদ্ধৃতির মধ্যে ছয়টি উদ্ধৃতিই ভুয়া। এগুলোর বাস্তবে কোনো অস্তিত্বই নেই। অর্থাৎ যারা নীতিটি তৈরি করেছেন, তারা এআইকে বলেছেন একটি নীতির খসড়া তৈরি করে দিতে এবং বিভিন্ন জায়গা থেকে উদ্ধৃতি দিতে। কিন্তু এআই এমন উদ্ধৃতি দিয়েছে যেগুলো বাস্তবে কেউ বলেনি বা লেখেননি। এআই বাক্যের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে নিজের মতো করে উদ্ধৃতি তৈরি করে দিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 

দক্ষিণ আফ্রিকার এডিটরস অব জার্নাল আলাদাভাবে নিশ্চিত করেছে যে, এআই নীতির খসড়াতে থাকা কিছু উদ্ধৃতি ভুয়া।

 

আরও পড়ুন: ওপেনএআই’র ধারণা আমার মস্তিষ্কপ্রসূত ছিল: ইলন মাস্ক

 

ডিসিডিটি মন্ত্রী সলি মালাতসি ভুলের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘জনমতের জন্য প্রকাশিত খসড়া জাতীয় এআই নীতিতে তথ্যসূত্রের তালিকায় বিভিন্ন ভুয়া উৎস থাকার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর আমরা অভ্যন্তরীণভাবে বিষয়টি যাচাই শুরু করি। পরে আমরা নিশ্চিত হয়েছি যে এমনটা ঘটেছে।’

 

তিনি আরও বলেন, ‘সম্ভাব্য সবচেয়ে ব্যাখ্যা হলো যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়া এআই দিয়ে তৈরি উদ্ধৃতি এতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। এটি হওয়া উচিত ছিল না।’

 

আনুষ্ঠানিকভাবে নথিটি প্রত্যাহার করে তিনি বলেন, ‘এই ব্যর্থতা শুধুমাত্র একটি প্রযুক্তিগত ত্রুটি নয়; বরং এটি খসড়া নীতিটির সততা ও বিশ্বাসযোগ্যতাকে ক্ষুণ্ন করেছে।’

 

সূত্র: কানেক্টিং আফ্রিকা
 

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন