উলিপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে খসে পড়ছে ছাদের পলেস্তারা, ঝুঁকিতে চিকিৎসা সেবা

১ দিন আগে
মানুষের স্বাস্থ্যসেবার প্রতীকই হয়ে উঠেছে এখন জীবননাশের কারণ। সম্প্রতি কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ছাদের পলেস্তারা খসে অল্পের জন্য রক্ষা পান রোগীর এক স্বজন ও তার সন্তান। প্রায় ঘটতে থাকা এমন দুর্ঘটনার মাঝেই জীবনের ঝুঁকিতে প্রতিদিন চালছে শতশত মানুষের চিকিৎসা কার্যক্রম। এদিকে খবর পেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটি পরিদর্শন করে ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানায় জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ।

সরেজমিনে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ঘুরে দেখা যায়, পুরোপুরি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে ১৯৮০ সালে নির্মিত কুড়িগ্রামের ৫০ শয্যার উলিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দ্বিতল ভবন। এই ভবনে যখন তখন খসে পড়ছে ছাদের পলেস্তারা, দেয়ালের বিভিন্ন অংশে দেখা দিয়েছে ফাটল। এরই মাঝে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন আন্তঃবিভাগে ৬০ থেকে ৭০ জন ও বহির্বিভাগে ৪০০ থেকে ৫০০ জন রোগী নিচ্ছেন চিকিৎসা সেবা। একই ভবনে চালানো হচ্ছে পরিবার পরিকল্পনার কার্যক্রমও।


এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যেকোনো সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কার মধ্যেই চিকিৎসা সেবা নেয়ার কথা জানায় রোগী ও তার স্বজনরা। আশঙ্কা নিয়েই সেবা দেয়ার কথা জানায় চিকিৎসকসহ স্বাস্থ্যকর্মীরাও।


এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা সেবা নিতে আসা রোগীর সাবজন আকবর আলী জানান, এই হাসপাতালে রোগী ও স্বজন কেউ নিরাপদ না। যখন তখন ছাদের পলেস্তারা খুলে পড়ছে। ভবনটি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ।


স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটির স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ জানান, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।


আরও পড়ুন: জবিতে পলেস্তারা খসে আহত ২: প্রতিবাদে হেলমেট পরে শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীরা


এদিকে গত ৭ এপ্রিল ছাদের পলেস্তারা খসে রোগীর এক স্বজন ও তার সন্তান অল্পের জন্য রক্ষা পাওয়ার খবর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে পরদিন স্বাস্থ্য বিভাগের প্রকৌশলীকে নিয়ে ভবনটি পরিদর্শন করেন সিভিল সার্জন।


এ সময় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে চিকিৎসা সেবার বিকল্প ব্যবস্থা করে ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণার কথা জানান স্বাস্থ্য বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহফুজুর রহমান ও সিভিল সার্জন ডা. স্বপন কুমার বিশ্বাস।


উলিপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তথ্য মতে, জেলার এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্বাস্থ্য সেবা নেন উলিপুর উপজেলা ও উলিপুর পৌরসভার প্রায় ৫ লক্ষাধিক মানুষ। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে ৩৮ জন চিকিৎসকের বিপরীতে রয়েছে ১৬ জন ও সেবিকাসহ অন্যান্য কর্মচারী রয়েছে ৩৪ জন।

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন