বুধবার (৪ মার্চ) বিকেল ৪টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদ ভবনে অবস্থিত সমাজকল্যাণ বিভাগে এ ঘটনা ঘটে।
পরে খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি ও ইবি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উভয়কে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারে নেয়। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাদের কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসক আসমা সাদিয়া রুনাকে মৃত ঘোষণা করেন।
২৫০ শয্যাবিশিষ্ট কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক হোসেন ইমাম বলেন, গুরুতর আহত অবস্থায় ওই শিক্ষিকা ও কর্মচারীকে বিকেল পাঁচটার দিকে হাসপাতালে আনা হয়। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই মারা যান আসমা সাদিয়া রুনা। কর্মচারী ফজলুর অবস্থাও আশঙ্কাজনক।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর শাহিনুজ্জামান বলেন, খবর পেয়ে গিয়ে দেখি ম্যাডাম পড়ে আছেন। ওড়না দিয়ে উনার মুখ ঢাকা। ফজলু ছেলেটাও রক্তাক্ত অবস্থায় গড়াগড়ি খাচ্ছে। পরে ইবি থানার ওসি এলে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান।
আরও পড়ুন: সাঙ্গ হলো সাধুসঙ্গ, পূর্ণসেবায় খুশি লালনভক্তরা
শাহিনুজ্জামান আরও বলেন, শিক্ষিকাকে হত্যার পর ওই ছেলেটা আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে। ছাত্ররা প্রত্যক্ষদর্শী। ওরা দেখছে, ও (ফজলু) নিজের গলায় নিজেই ছুরি মারছে। ওই ছেলেটা এখানে কয়েক বছর ধরে ডেইলি বেসিসে জব করেন। কোনো একটা বিষয় নিয়ে ওই শিক্ষিকার সঙ্গে কর্মচারীর আগে কথা কাটাকাটি হয়েছিল। পরে ওই ছেলেকে অন্য বিভাগে ট্রান্সফার করা হয়।
কুষ্টিয়ার সহকারী পুলিশ সুপার (মিরপুর সার্কেল) মুহাম্মদ মাহমুদুল হক মজুমদার বলেন, আমি শুনেছি। ঘটনাস্থলে যাচ্ছি। আপাতত এর বেশি জানি না।
থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদ ভবনের নিচে দায়িত্বরত আনসার সদস্য বলেন, ‘ঘটনার সময় আমরা এখানে চার জন গল্প করছিলাম। সিভিল লোকও ছিলেন ৩-৪ জন। হঠাৎ আমরা বাঁচাও বাঁচাও শব্দ শুনি। তারপর একসঙ্গে ওপরে উঠে চেয়ারম্যানের রুমের বাইরে ডাকাডাকি করি। পরে দরোজা না খুললে ভেঙে ফেলি। তারপর দেখি যে ম্যাডাম উপুড় হয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় শুয়ে আছেন। আর কর্মচারী নিজেই নিজের গলায় ছুরি চালিয়ে দিচ্ছেন। পরে আমরা প্রশাসনের কাছে ফোন দেই।’
আরও পড়ুন: মনে হচ্ছে উপরওয়ালা কুষ্টিয়ায় নেই, উপরওয়ালা এখন আমি: আমির হামজা
সমাজকল্যাণ বিভাগের শিক্ষার্থী মাহমুদ জানান, ফজলুকে বদলি করা হয় প্রায় ২ মাস আগে। তবে উনি এটা মেনে নিতে পারছিলেন না। এটা নিয়ে অনেক রেষারেষিও হচ্ছিল। এ রকম পর্যায়ে যাবে এটা আমরা ভাবতেও পারিনি। তবে উনি এটা মেনে নিতে পারেননি। উনি প্রতিষ্ঠাকালীন কর্মচারী, উনি এখান থেকে চলে যাবেন, উনি সব কিছুই জানেন এই বিভাগের। উনাকে পলিটিক্যাল সায়েন্সে বদলি করা হয়। আর উনি এখন এমন সাংঘাতিক একটা ডিসিশন নেবে আমরা ভাবতেও পারিনি।’

১ সপ্তাহে আগে
৩







Bengali (BD) ·
English (US) ·