ইরানের সঙ্গে সমঝোতা ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্রে ফিরছে মার্কিন প্রতিনিধিদল

১৬ ঘন্টা আগে
ইসলামাবাদে ইরানের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনার পর কোনো চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স।

ইরানের সঙ্গে দীর্ঘ ২১ ঘণ্টার বৈঠকের পর রোববার (১২ এপ্রিল) এক সংবাদ সম্মেলনে জেডি ভ্যান্স বলেন, দীর্ঘ আলোচনায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কথা হয়েছে, যা একটি ইতিবাচক দিক। তবে শেষ পর্যন্ত কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো যায়নি।

 

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র তার ‘রেড লাইন’ স্পষ্ট করে দিয়েছে, কিন্তু ইরান ‘আমাদের শর্তে রাজি হয়নি’। আমরা এমন কোনো অবস্থায় পৌঁছাতে পারিনি, যেখানে ইরান আমাদের শর্তগুলো মেনে নেবে।

 

আরও পড়ুন: দ্বিতীয় দিনে গড়াল যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা, পরিবেশ ‘সৌহার্দ্যপূর্ণ’

 

ভ্যান্স বলেন, প্রায় ২১ ঘণ্টা ধরে আলোচনা হয়েছে। এতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কথা হয়েছে, যা ইতিবাচক দিক। তবে শেষ পর্যন্ত কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো যায়নি। যুক্তরাষ্ট্র এখন পাকিস্তান ছাড়ার পরিকল্পনা করছে।

 

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এবং ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, আলোচনার কোনো ঘাটতি থাকলে সেটি পাকিস্তানের কারণে নয়। তারা অসাধারণ কাজ করেছে, দারুণভাবে চেষ্টা করেছে আমাদের ও ইরানের মধ্যে দূরত্ব কমাতে এবং একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে।

 

আরও পড়ুন: আলোচনার সফলতা নির্ভর করছে যুক্তরাষ্ট্রের সদিচ্ছার ওপর: ইরান

 

ভ্যান্স আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র নমনীয় মনোভাব এবং সৎ উদ্দেশ্য নিয়েই আলোচনায় এসেছিল, কিন্তু এটা দুর্ভাগ্যজনক যে দুই পক্ষ কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি।

 

তিনি বলেন, ‘আমরা এখান থেকে একটি অত্যন্ত সহজ প্রস্তাব নিয়ে যাচ্ছি, একটি বোঝাপড়ার পদ্ধতি, যা আমাদের চূড়ান্ত এবং সর্বোত্তম প্রস্তাব। আমরা দেখব ইরানিরা তা গ্রহণ করে কি না।’

 

ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে বলে জানান ভ্যান্স। তবে ভবিষ্যতে ইরান যাতে পরমাণু অস্ত্র তৈরি না করে সে জন্য দৃঢ় অঙ্গীকার প্রয়োজন। তবে সেটা এখনো প্রতীয়মান হয়নি। এমনটা হবে বলে যুক্তরাষ্ট্র আশা করছে।

 

ইরানের পরমাণু প্রকল্প এবং ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে গত দুই যুগ ধরে দেশটির সঙ্গে দ্বন্দ্ব চলছে যুক্তরাষ্ট্রের। এ দুই ইস্যুতে গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ২১ তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সংলাপ চলে। কোনো প্রকার সমঝোতা চুক্তি ছাড়াই ২৭ ফেব্রুয়ারি শেষ হয় সেই সংলাপ।

 

এর পরের দিন ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। ওয়াশিংটনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে একই সময়ে ইরানে সামরিক অভিযান ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ শুরু করে ইসরায়েলও।

 

সংলাপ ও কূটনৈতিক পন্থায় উত্তেজনা প্রশমনের জন্য গত ৭ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। তারই ধারাবাহিকতায় পাকিস্তানে আলোচনায় বসেছিলেন দুই দেশের সরকারি প্রতিনিধিরা, যা কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হলো।

 

সূত্র: বিবিসি, আল জাজিরা

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন