খবরে বলা হয়েছে, ইরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনা অচলাবস্থায় পড়ার পর ট্রাম্প ও তার উপদেষ্টারা কিছু পদক্ষেপ বিবেচনা করছেন। এর মধ্যে হরমুজ প্রণালীতে অবরোধের পাশাপাশি সীমিত সামরিক হামলাও একটি বিকল্প হিসেবে দেখা হচ্ছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাকিস্তানে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা ভেঙে যাওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই রোববার (১২ এপ্রিল) এসব বিকল্প নিয়ে আলোচনা হয়।
তবে পূর্ণমাত্রার বড় ধরনের বোমা হামলার সম্ভাবনা তুলনামূলক কম বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। কারণ এতে অঞ্চল আরও অস্থিতিশীল হয়ে পড়তে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধে জড়াতে ট্রাম্প আগ্রহী নন।
এছাড়া অস্থায়ী অবরোধ আরোপ করে মিত্র দেশগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করে ভবিষ্যতে দীর্ঘমেয়াদি সামরিক নিরাপত্তা মিশনের দায়িত্ব নিতে বলার চিন্তাও রয়েছে।
আরও পড়ুন: আমি যা চাই তার সবই দেবে ইরান: ট্রাম্প
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, আলোচনা ভেঙে যাওয়ার পর ট্রাম্প রবিবারের বেশিরভাগ সময় মিয়ামির তার রিসোর্টে কাটান। এ সময় তিনি একটি টিভি অনুষ্ঠানে কথা বলেন, গলফ খেলেন এবং উপদেষ্টাদের সঙ্গে আলোচনা করেন।
তবে তার সহকারীরা জানিয়েছেন, এসব কঠোর অবস্থানের মধ্যেও ট্রাম্প এখনও কূটনৈতিক সমাধানের জন্য উন্মুক্ত আছেন। হোয়াইট হাউসের একজন মুখপাত্র ট্রাম্পের সম্ভাব্য পদক্ষেপ নিয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।
পাঁচ সপ্তাহের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর গত মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই সপ্তাহের অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে সম্মত হয় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। এরপর চলমান সংঘাতের অবসানে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ঐতিহাসিক বৈঠকের আয়োজন করা হয়।
স্থানীয় সময় গত শনিবার (১১ এপ্রিল) এই আলোচনা শুরু হয়। প্রায় ২১ ঘণ্টার আলোচনা শেষ হয় রোববার (১২ এপ্রিল) সকালে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার আলোচনা কার্যত ব্যর্থ হয়েছে।
হরমুজ প্রণালী অবরোধের হুমকি, পাল্টা হুঁশিয়ারি ইরানের
আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর ট্রাম্প এরই মধ্যে হুমকি দিয়ে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী হরমুজ প্রণালীতে অবরোধ শুরু করবে এবং আন্তর্জাতিক জলসীমায় ইরানকে টোল দেয়া যেকোনো জাহাজকেও আটক করবে।
নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে দেয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘হরমুজ প্রণালীতে প্রবেশ বা বের হতে চাওয়া সব জাহাজ আমরা অবরোধ করব।’
আরও পড়ুন: ইরানকে সাহায্য করলেই চীনের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক, হুমকি ট্রাম্পের
আরেক পোস্টে তিনি দাবি করেন, ইরান প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী প্রণালী খুলে দিতে ‘ইচ্ছাকৃতভাবে ব্যর্থ’ হয়েছে, যার ফলে বিশ্বজুড়ে অনেক দেশের মধ্যে ‘উদ্বেগ’ ও ‘ভোগান্তি’ তৈরি হয়েছে।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, প্রেসিডেন্টের নির্দেশ অনুযায়ী সোমবার সকাল (১৩ এপ্রিল) থেকে ইরানের বন্দরগুলোতে ঢোকা-বের হওয়া সব নৌযানকে লক্ষ্য করে অবরোধ কার্যকর করা হবে।
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, হরমুজ প্রণালীর কাছে কোনো সামরিক জাহাজ এগিয়ে এলে তা যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হবে।
ট্রাম্প আবারও হুমকি দিয়ে বলেন, কোনো চুক্তি না হলে তিনি ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ বেসামরিক জ্বালানি অবকাঠামো ধ্বংস করতে পারেন। তিনি ফক্স নিউজকে বলেন, ‘আমি একদিনেই ইরানকে ধ্বংস করে দিতে পারি।’
আরও পড়ুন: ফক্স নিউজকে ট্রাম্প / আমি একদিনেই ইরানকে ধ্বংস করতে পারি
তবে তিনি এটাও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের হরমুজ প্রণালীর ওপর নির্ভরশীলতা নেই। তার মন্তব্য, ‘আমরা সেখান থেকে তেল আনি না। আমাদের নিজেদেরই প্রচুর তেল আছে।’
অন্যদিকে ইরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, ট্রাম্পের নতুন হুমকি ইরানি জনগণের ওপর কোনো প্রভাব ফেলবে না। তার ভাষায়, ‘আপনি যদি লড়াই করেন, আমরাও লড়াই করব। আর যদি যুক্তি নিয়ে আসেন, আমরা যুক্তি দিয়েই জবাব দেব। আমরা কোনো হুমকির কাছে মাথা নত করব না।’
তথ্যসূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
]]>
২ দিন আগে
১








Bengali (BD) ·
English (US) ·