ইরানের পরমাণু স্থাপনায় হামলা, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার উদ্বেগ

১ সপ্তাহে আগে
ইরানের পরমাণু স্থাপনাগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ধারাবাহিক হামলায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক তেদরোস আধানম গেব্রেয়াসুস। তিনি বলেছেন, ইরানের বুশেহর পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাছে চালানো হামলা পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করেছে।

আজ রোববার (৫ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ এক বার্তায় সতর্ক করে গেব্রেয়াসুস বলেন, এই হামলা একটি স্পষ্ট সতর্কবার্তা যে—এ ধরনের আঘাত পারমাণবিক দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে, যার স্বাস্থ্যগত প্রভাব প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে ভয়াবহ ক্ষতি ডেকে আনতে পারে। সংঘাত যত দীর্ঘ হচ্ছে, ঝুঁকি ও হুমকিও তত বাড়ছে।

 

বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি ইরানের একমাত্র চালু পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। এটি বুশেহর শহরে অবস্থিত, যেখানে প্রায় আড়াই লাখ মানুষের বসবাস এবং এটি দেশের গুরুত্বপূর্ণ শিল্প ও সামরিক কেন্দ্রগুলোর একটি।

 

ইরানের সরকারি সংবাদ সংস্থা ইরনার প্রতিবেদন মতে, গত শনিবার (৪ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে দক্ষিণ-পশ্চিমে বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাছে চতুর্থবারের মতো ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়। এতে এক প্রহরী নিহত হন। তবে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মূল স্থাপনাগুলোর কোনো ক্ষতি হয়নি।

 

আরও পড়ুন: ইরানের বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাছে আবারও বিমান হামলা

 

এছাড়া ইরানের খুজেস্তান প্রদেশে অন্তত ছয়টি পেট্রোকেমিক্যাল কারখানায় বিমান হামলার লক্ষ্যবস্তু করা হয়। ফার্স নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, খুজেস্তান প্রদেশের ডেপুটি গভর্নর ভালিওল্লাহ হায়াতির বরাতে, মাহশাহরের বিশেষ পেট্রোকেমিক্যাল অঞ্চলে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে পাঁচজন আহত হয়েছেন। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনও নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।

 

এদিকে বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাছে হামলার ঘটনায় কড়া প্রতিক্রিয়া জানান ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি লেখেন, ‘ইউক্রেনের জাপোরিঝিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাছে সংঘাত নিয়ে পশ্চিমাদের সেই ক্ষোভের কথা মনে আছে? ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র এখন পর্যন্ত আমাদের বুশেহর কেন্দ্রে চারবার বোমা হামলা চালিয়েছে।’

 

আরাঘচি সতর্ক করে বলেন যে, এই ধরনের হামলার ফলে সৃষ্ট তেজস্ক্রিয় বিকিরণ বা ‘রেডিওঅ্যাকটিভ ফলআউট’ তেহরানের চেয়ে গ্লাল্ফ কোঅপারেশন কাউন্সিল বা জিসিসি সদস্যভুক্ত দেশগুলোর রাজধানীতে প্রাণের অস্তিত্ব শেষ করে দেবে। 

 

আরও পড়ুন: ইরানের অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা এখনও শুরুই করিনি, দম্ভোক্তি ট্রাম্পের

 

তিনি বলেন, ইরানের পেট্রোকেমিক্যাল শিল্পে হামলা চালানোর মাধ্যমে আক্রমণকারীদের আসল উদ্দেশ্যই এখন পরিষ্কার হয়ে গেছে। পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর জন্য এই তেজস্ক্রিয়তা বড় ধরনের হুমকি হতে পারে বলে আরাঘচি ইঙ্গিত দেন। 

 

এই হামলার ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে রাশিয়াও। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা এক বিবৃতিতে বলেন, এই ধরনের ‘অশুভ কর্মকাণ্ড’ আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি এবং এতে একজনের প্রাণহানি অত্যন্ত দুঃখজনক। তিনি অবিলম্বে বুশেহরসহ ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর ওপর হামলা বন্ধের আহ্বান জানান।

 

বিবৃতিতে অবস্থান স্পষ্ট করে জানিয়ে বলা হয়েছে, পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা আন্তর্জাতিক আইন ও স্থিতিশীলতার পরিপন্থি। এ ধরনের কর্মকাণ্ড পুরো অঞ্চলে বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। এদিকে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা রোসাটম জানিয়েছে, হামলার পর বুশেহর কেন্দ্র থেকে ১৯৮ জন কর্মীকে সরিয়ে নেয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়াতে এই পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে বলে জানানো হয়।

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন