কেন এই দ্বীপ লক্ষ্যবস্তু?
ইরানের মোট তেল রপ্তানির প্রায় ৯০ শতাংশই সম্পন্ন হয় এই খারগ দ্বীপের মাধ্যমে। গভীর সমুদ্রবেষ্টিত এই দ্বীপে বিশালাকার ট্যাঙ্কারে (ভিএলসিসি) একযোগে প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল তেল লোড করা সম্ভব। আশির দশকে ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময়ও এই দ্বীপটি বারবার হামলার শিকার হয়েছিল। চলতি বছরের ১৩ মার্চ যুক্তরাষ্ট্র এখানে ৯০টি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালালেও সচেতনভাবে তেল অবকাঠামো এড়িয়ে গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, সরাসরি তেল অবকাঠামো ধ্বংস না করে দ্বীপটি দখলে নিয়ে ইরানকে আলোচনার টেবিলে বাধ্য করতে চান ট্রাম্প।
মার্কিন রণকৌশল: আকাশ ও সমুদ্রপথে আক্রমণ
সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি যুক্তরাষ্ট্র খারগ দ্বীপ দখলের সিদ্ধান্ত নেয়, তবে সেটি হবে একটি স্বল্পমেয়াদি পদক্ষেপ। এর মূল উদ্দেশ্য হবে ইরানের জ্বালানি রফতানি বন্ধ করে দেয়া, যাতে তেহরান হরমুজ প্রণালির ওপর থেকে অবরোধ তুলে নিতে বাধ্য হয়।
তাত্ত্বিকভাবে, মার্কিন ৮২তম এয়ারবর্ন ডিভিশনের প্রায় ২ হাজার প্যারাট্রুপার রাতের অন্ধকারে মাত্র ২০ বর্গকিলোমিটারের এই ক্ষুদ্র দ্বীপে আকাশপথে অবতরণ করতে পারে। অন্যদিকে, ওসপ্রে টিল্ট-রোটার এয়ারক্রাফট এবং দ্রুতগতিসম্পন্ন ল্যান্ডিং ক্রাফট নিয়ে প্রায় ৫ হাজার মার্কিন মেরিন সেনা সমুদ্রপথে আক্রমণ চালাতে পারে।
আরও পড়ুন: ‘যে কোনো উপায়ে’ সচল করা হবে হরমুজ প্রণালি: মার্কো রুবিও
রক্তক্ষয়ী সংঘাতের আশঙ্কা ও ঝুঁকি
অভিযানটি শুনতে যতটা সহজ মনে হচ্ছে, বাস্তবে তা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, মার্কিন বাহিনী পা রাখলে সেখানে ‘আগুনের বৃষ্টি’ বর্ষণ করা হবে। দ্বীপটিতে ইরান আগে থেকেই শক্তিশালী ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য মিসাইল ব্যাটারি মোতায়েন করে রেখেছে।
সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো হরমুজ প্রণালি। মার্কিন জাহাজগুলোকে ইরানি ড্রোন ও মিসাইল সাইটের পাশ দিয়ে কয়েকশ মাইল পথ পাড়ি দিয়ে দ্বীপে পৌঁছাতে হবে। ইউক্রেনের ‘স্নেক আইল্যান্ড’ দখলের পর রাশিয়ার যে দশা হয়েছিল, এখানেও যুক্তরাষ্ট্রের তেমন হওয়ার ভয় আছে। অর্থাৎ, দ্বীপটি দখল করলেও মূল ভূখণ্ড থেকে ইরানের অবিরাম গোলাবর্ষণের মুখে সেখানে টিকে থাকা মার্কিন সেনাদের জন্য কঠিন হবে।
আরও পড়ুন: দ্রুত একটি চুক্তি না হলে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ‘উড়িয়ে দেয়া’ হবে: ট্রাম্প
অন্যান্য দ্বীপ ও কূটনীতির চাল
অনেকের ধারণা, খারগ দ্বীপ নিয়ে এই হইচই আসলে যুক্তরাষ্ট্রের একটি ‘ছলনা’ হতে পারে। পারস্য উপসাগরে ইরানের আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দ্বীপ রয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের নজরে থাকতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে বন্দর আব্বাসের কাছে ‘লারাক’ দ্বীপ, বৃহত্তম দ্বীপ ‘কেশম’ (যেখানে ভূগর্ভস্থ মিসাইল সাইট রয়েছে) কিংবা বিতর্কিত ‘আবু মুসা’ ও ‘টুনব’ দ্বীপপুঞ্জ।
আলোচনা নাকি সংঘাত?
একদিকে সেনা মোতায়েন ও রণহুংকার, অন্যদিকে ডনাল্ড ট্রাম্প বলছেন ইরানের সঙ্গে ‘গুরুতর আলোচনা’ চলছে। যুদ্ধের পঞ্চম সপ্তাহে এসে ট্রাম্পের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা নিয়ে ধোঁয়াশা কাটছে না। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানিদের চেয়েও ট্রাম্প নিজেই হয়তো একটি ‘ডিল’ বা চুক্তির জন্য বেশি মরিয়া। তবে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার পাহাড়সম দূরত্ব ঘুচিয়ে কোনো সমাধান আসবে কি না, তা সময়ই বলে দেবে।
সূত্র: বিবিসি

২ সপ্তাহ আগে
৫








Bengali (BD) ·
English (US) ·