ইরানে স্কুলে প্রাণঘাতী বোমা হামলার তদন্ত দ্রুত শেষ করার আহ্বান জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধানের

২ সপ্তাহ আগে
দক্ষিণ ইরানের মিনাবে একটি বালিকা বিদ্যালয়ে বোমা হামলার ঘটনায় তদন্ত দ্রুত শেষ করতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনার ভলকার টুর্ক।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ভোরে ইরানে যৌথ সামরিক আগ্রাসন শুরু করে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র। ওইদিন ইরানের দক্ষিণে হরমুজগান প্রদেশের মিনাবে একটি মেয়েদের স্কুলে হামলা চালানো হয়। ইরানের কর্তৃপক্ষের তথ্য মতে, ওই হামলায় ১১০ জন শিশুসহ ১৭৫ জন নিহত হন।

 

জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র উভয়ই পৃথকভাবে জানিয়েছে যে, তারা ঘটনাটি তদন্ত করছে। ৫ মার্চ রয়টার্স প্রথম জানায় যে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক তদন্তকারীরা মনে করছেন—সম্ভবত এই ঘটনার জন্য মার্কিন বাহিনীই দায়ী। তবে এখনও তারা চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি এবং তদন্ত সম্পন্ন হয়নি। 

 

জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান ভলকার টুর্ক ওয়াশিংটনকে দ্রুত তাদের তদন্ত শেষ করে ফলাফল প্রকাশ করার আহ্বান জানিয়েছেন। আজ শুক্রবার (২৭ মার্চ) ওয়াশিংটনে জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদে সংঘাতকালীন শিশুদের সুরক্ষা বিষয়ক আলোচনায় তিনি বলেন, ‘ভয়াবহ ক্ষতির জন্য অবশ্যই ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে।’ 

 

আরও পড়ুন: হরমুজে জাহাজ চলাচল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের মিত্র দেশগুলোকে আইআরজিসির হুঁশিয়ারি

 

মিনাবের শাহারেহ তাইয়েবেহ স্কুলে হামলার বিষয়ে আলোচনার জন্য ইরান জেনেভা কাউন্সিলে জরুরি বিতর্ক আহ্বান করেছিল। টুর্ক বলেন, ‘যারা হামলা চালিয়েছে, তাদের ওপরই দ্রুত, নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং জবাবদিহিতার নিশ্চিতের দায়িত্ব বর্তায়।’ 

 

এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাইলে জেনেভায় জাতিসংঘে ইসরাইলের কূটনৈতিক মিশন উল্টো ইরানের সমালোচনা করেন। এক মুখপাত্র বলেন, ‘মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রতীক যে দেশ, তার এই জরুরি বিতর্ক আহ্বান করা একটি প্রহসন এবং জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলের অপব্যবহার।’ 

 

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের মিশন এ ঘটনার বিষয়ে এবং তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তাৎক্ষণিকভাবে সেখান থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। 

 

ভিডিও লিঙ্কে অংশ নিয়ে বৈঠকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, ‘এই নৃশংসতা কোনোভাবেই ন্যায্যতা দেয়া যায় না, গোপন রাখা যায় না, এবং নীরবতা বা উদাসীনতার সঙ্গে এটিকে গ্রহণ করা উচিত নয়।’

 

আরও পড়ুন: ইরানে আবাসিক এলাকায় মার্কিন-ইসরাইলি হামলায় নিহত ৬

 

জেনেভায় জাতিসংঘে পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত বিলাল আহমেদ বলেন, ‘স্কুলের শিশুদের মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না। অন্যদিকে চীনের রাষ্ট্রদূত জিয়া গাইড জানান, তিনি এ ঘটনায় গভীরভাবে শোকাহত। তিনি বলেন, ‘এটি মানবতার ন্যূনতম সীমা লঙ্ঘন, মানবাধিকারের সবচেয়ে গুরুতর লঙ্ঘন এবং আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের প্রতি প্রকাশ্য অবজ্ঞা।’

 

ব্রিটেনসহ আরও অনেক দেশ এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। তবে একই সঙ্গে জানুয়ারিতে ইরানি কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে গণবিক্ষোভের সময় ইরানের নিজস্ব মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়টিও তারা তুলে ধরেছে।

 

এছাড়া ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর ইরানের পাল্টা হামলাগুলোরও নিন্দা জানানো হয়েছে—যার মধ্যে ইসরাইল, যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি এবং উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর হামলার বিষয়টি কাউন্সিলে আলোচনা হয়েছে।

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন