ইরানে আগ্রাসন বন্ধ না করলে সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপ চালানোর ঘোষণা ইয়েমেনের

২ সপ্তাহ আগে
ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন-ইসরাইলি আগ্রাসন বন্ধ না করলে সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপ করার জন্য প্রস্তুত বলে ঘোষণা করেছে ইয়েমেন।

ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনী সতর্ক করেছে যে, ইরান ও প্রতিরোধ অক্ষশক্তির বিরুদ্ধে আগ্রাসন বাড়তে থাকলে তারা সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপ চালাবে। 

 

শুক্রবার (২৭ মার্চ) এক বিবৃতিতে ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া সারি বলেন, ‘আমরা নিশ্চিত করছি যে, সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপের জন্য আমাদের হাত ট্রিগারেই রয়েছে।’

 

আরও পড়ুন:লড়াইয়ে যোগ দিলো হুথি, ইসরাইলকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

 

২৮ ফেব্রুয়ারি ইসলামী প্রজাতন্ত্রকে (ইরান) লক্ষ্য করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলি বাহিনী যৌথ হামলা শুরু করে। বিনা উস্কানির  আগ্রাসন শুরুর প্রায় এক মাস পর এই বিবৃতিটি দিলো ইয়েমেন। 

 

সারির মতে, উত্তেজনা বৃদ্ধির পাশাপাশি, চলমান আগ্রাসনে অন্যান্য পক্ষের অংশগ্রহণ এবং ইসলামী প্রজাতন্ত্র বা অন্য কোনো মুসলিম দেশের বিরুদ্ধে শত্রুতামূলক অভিযান চালানোর জন্য লোহিত সাগরের ব্যবহার করা ও আরও কিছু বিষয় ইয়েমেনি সৈন্যদের হস্তক্ষেপের কারণ হতে পারে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘আমরা তা হতে দেব না।’

 

ওই কর্মকর্তা বলেন, শুধু ইসলামী প্রজাতন্ত্রকেই নয়, বরং প্রতিরোধ অক্ষ এবং বৃহত্তর মুসলিম বিশ্বকেও লক্ষ্য করে ব্যাপকতর অভিযান চালালে, তার বিরুদ্ধে বাহিনীর এই অবস্থান অবিচল থাকবে, যা ধর্মীয় ও নৈতিক দায়িত্ববোধ থেকে উদ্ভূত হয়েছে বলে তারা মনে করে।

 

ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, এই আগ্রাসনের লক্ষ্য হলো ইসরাইলি শাসনের তথাকথিত ‘বৃহত্তর ইসরাইল’ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা। পশ্চিম এশিয়া জুড়ে আরও বিস্তৃত এলাকা অন্তর্ভুক্ত করে নিজেদের দখল করা অঞ্চল আরও বাড়ানোর দিকে ইঙ্গিত করেন তিনি। 

 

Yemen's Ansarullah ready to enter battlefield in support of Iran: Report https://t.co/Z6foOEWEeX

— Press TV 🔻 (@PressTV) March 26, 2026


বিবৃতিতে ইয়েমেনের অবস্থানকে জায়নবাদী চক্রান্ত এবং যারা এটি বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করছে, অর্থাৎ তেল আবিব ও ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর জন্য আঞ্চলিক জনগণের ‘বৈধ অধিকার’-এর অংশ হিসেবেও বর্ণনা করা হয়েছে।

 

তিনি আগ্রাসন বন্ধের লক্ষ্যে গৃহীত কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় সাড়া দেয়ার জন্য তাদের প্রতি আহ্বান জানান এবং এই নৃশংসতাকে ‘অন্যায়, নিপীড়নমূলক ও অযৌক্তিক’ হামলা হিসেবে বর্ণনা করেন, যা বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা এবং বিশ্ব অর্থনীতির ক্ষতি করে।


এর আগে ইরান যুদ্ধে যোগ দিতে শনিবার (২৮ মার্চ) সকালে দক্ষিণ ইসরাইলের দিকে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতি।

 

আরও পড়ুন:ইরানের দুই স্টিল কারখানায় যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের বিমান হামলা

 

ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রটি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে সফলভাবে ভূপাতিত করা হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। এই হামলার ফলে দক্ষিণ ইসরাইলের বিয়ারশেবা ও আশপাশের শহরগুলোতে সাইরেন বেজে ওঠে এবং জনগণের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন