ইমামতি ছেড়ে ২১ দিনের ট্রেনিং নিয়ে চিকিৎসক, ১ বছরের কারাদণ্ড

৩ দিন আগে
কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে মাত্র ২১ দিনের প্রাথমিক চিকিৎসার প্রশিক্ষণ নিয়ে ডাক্তার পদবি ব্যবহার করে চিকিৎসা দেওয়ার অভিযোগে হাফেজ মো. ইব্রাহিম খলিল্লাহ (২৮) নামের এক হাতুড়ে ডাক্তারকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে তার চেম্বারটি অনির্দিষ্টকালের জন্য সিলগালা করা হয়েছে।

রোববার (১২ এপ্রিল) দুপুর আড়াইটার দিকে উপজেলার শিলাইদহ ইউনিয়নের বেলগাছি গগণ হরকরা মোড় এলাকায় উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স যৌথভাবে এই অভিযান চালায়।


দণ্ডপ্রাপ্ত ইব্রাহিম খলিল্লাহ শিলাইদহ ইউনিয়নের দাঁড়িগ্রামের রশিদ শেখের ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েক বছর আগেও তিনি মসজিদের ইমামতি করতেন। ২০১৪ সালে মানবিক বিভাগ থেকে এসএসসি এবং পরে ডিগ্রি পাস করেন। ২০২৩ সালে কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে মাত্র ২১ দিনের একটি প্রাথমিক চিকিৎসার প্রশিক্ষণ নেন তিনি। এরপরই ‘বেলগাছি মেডিকেল হল’ নামে চেম্বার খুলে শিশুসহ সব বয়সের মানুষকে সব রোগের চিকিৎসা দিতে শুরু করেন।


অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি কয়েকজন শিশু চুলকানির সমস্যার জন্য তার কাছে গেলে তিনি তাদের ‘আলফাকোর্ট’ নামের একটি স্টেরয়েড ইনজেকশন দেন। ওই ইনজেকশনের পর থেকে শিশুদের কারও মুখ অস্বাভাবিকভাবে ফুলে ওঠে, আবার কারও মুখে লোম গজাতে শুরু করে। এভাবে অন্তত ১০ শিশুর জীবন বিপন্ন হতে বসলে গত ৮ মার্চ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন সাতজন ভুক্তভোগী অভিভাবক।


আজ দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, বেলগাছি গগণ হরকরা মোড়ে ইব্রাহিমের ওষুধের দোকানে অভিযান চালাচ্ছে প্রশাসন। সেখানে উপস্থিত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয়রা জানান, তারা জানতেন ইব্রাহিম একজন বড় ডাক্তার। তার নামের আগে ডাক্তার পদবি এবং নিজস্ব সিল ও প্যাডও ছিল। অথচ আজ জানতে পারলেন তিনি মাত্র ২১ দিনের প্রশিক্ষণ নিয়ে মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলছিলেন।


আরও পড়ুন: প্রেমিকাকে এএসপি পরিচয় দেন রাজমিস্ত্রি, ধরা পড়লেন কার্ড বানাতে গিয়ে


ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন-২০০৯ এর ৫২ ধারায় আদালত পরিচালনা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাভিদ সারওয়ার। অভিযানে সহযোগিতা করেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা চিকিৎসক মোছা. শামিমা আক্তার এবং থানা-পুলিশ।


উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. শামিমা আক্তার বলেন, ২১ দিনের প্রশিক্ষণ নিয়ে তিনি ক্লিনিকের মতো চেম্বার খুলে স্টেরয়েড জাতীয় উচ্চমাত্রার চিকিৎসা দিচ্ছিলেন, যা আইনত দণ্ডনীয়। এতে অনেক শিশুর জীবন ঝুঁকির মুখে পড়েছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।


উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা আখতার জানান, জনগণের স্বাস্থ্যঝুঁকি বিবেচনায় এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। জনস্বার্থে এ ধরনের প্রতারণার বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন