ইউরোপ থেকে তিন সুপারস্টারকে ভাগাতে প্রস্তুত হচ্ছে সৌদি আরব

৪ সপ্তাহ আগে
আরেকটা গ্রীষ্ম আসছে আর সৌদি ফুটবল প্রস্তুতি নিচ্ছে চেকবই হাতে বাজারে নামতে। ইউরোপের ফুটবল বাজারের শীর্ষ তারকাদের মোটা অঙ্কের অর্থের হাতছানি দিয়ে ডাকছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশটি। এবারের গ্রীষ্মকালীন দলবদলের বাজারে ইউরোপের সর্বোচ্চ পর্যায়ে খেলা তিনজন এলিট তারকা এখন সৌদি ফুটবলের দলবদলের এজেন্ডার শীর্ষে।

সৌদি আরবের শীতকালীন ট্রান্সফার উইন্ডো ৫ জানুয়ারি খুলেছে, যা বন্ধ হবে ২ ফেব্রুয়ারি। তবে আসল বড় চমকগুলো রাখা হচ্ছে গ্রীষ্মের জন্য। দ্য টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউরোপীয় মৌসুম শেষ হলেই সৌদি ক্লাবগুলো অত্যন্ত আগ্রাসী হয়ে ট্রান্সফার অভিযানে নামবে।


কৌশলটি পরিষ্কার; সৌদি লিগের বেশ কয়েকজন বড় তারকার চুক্তি মৌসুম শেষে শেষ হচ্ছে, আর সেই শূন্যস্থান পূরণ করতে চাওয়া হচ্ছে নতুন বৈশ্বিক সুপারস্টার দিয়ে–যাতে একদিকে লিগের প্রতিযোগিতার  মান বাড়ে, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতাও শক্ত হয়।


শিরোনামে থাকা নামগুলোর মধ্যে আছেন রিয়াল মাদ্রিদের তারকা ভিনিসিউস জুনিয়র এবং লিভারপুলের আইকন মোহামেদ সালাহ। বর্তমান ক্লাবের সঙ্গে দুজনেরই বর্তমান চুক্তি ২০২৭ সাল পর্যন্ত, ফলে যেকোনো চুক্তিই হবে অত্যন্ত জটিল, যদিও আর্থিক দিক থেকে অসম্ভব নয়।


আরও পড়ুন:  মার্টিনেজদের ডাগআউটে বোতল ছোড়ায় আড়াই কোটি টাকা গচ্ছা দিচ্ছে চেলসি


মিশরীয় তারকা সালাহর ক্ষেত্রে আরব দুনিয়ায় তার প্রতীকী গুরুত্ব তাকে অগ্রাধিকার তালিকায় রেখেছে। লিভারপুল ও কোচ আর্নে স্লটের সঙ্গে সাম্প্রতিক টানাপোড়েন সত্ত্বেও, তিনি ২০২৫ সালে চুক্তি নবায়ন করেছেন এবং আপাতত অ্যানফিল্ডেই আছেন। তবে আগের গ্রীষ্মগুলোর মতো এবারও সৌদি ফুটবল পূর্ণ শক্তি নিয়ে ঝাঁপাবে বলেই ধারণা।


তবে, এই মুহূর্তে সবচেয়ে বাস্তবসম্মত টার্গেট মনে করা হচ্ছে ক্যাসেমিরোকে। ৩৩ বছর বয়সী এই ব্রাজিলিয়ান তারকা ইতিমধ্যেই নিশ্চিত করেছেন যে মৌসুম শেষে তিনি ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ছাড়বেন এবং জুনে ফ্রি এজেন্ট হয়ে যাবেন।


রিয়াল মাদ্রিদের সাবেক এই মিডফিল্ডারের প্রতি আগেও আগ্রহ দেখিয়েছিল আল ইত্তিহাদ, এবং এবার তারা আবার আলোচনা শুরু করতে পারে। সৌদি আরবে গেলে ক্যাসেমিরো একই দলে পাবেন সাবেক দুই সতীর্থ করিম বেনজেমা ও ফাবিনিয়োকে। কোচ হিসেবে সার্জিও কনসেইসাওয়ের অধীনে তার ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায় কাটানোর জন্য আদর্শ ক্রীড়া ও আর্থিক পরিবেশ আছে ক্লাবটিতে।


আরও পড়ুন: নেপালের কাছে হেরে সাফ ফুটসালের মিশন শেষ করলো বাংলাদেশ


এই আক্রমণাত্মক কৌশলের পেছনে রয়েছে সৌদি পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড (পিআইএফ), যারা বিশ্বমানের তারকাদের টানার লক্ষ্য থেকে একচুলও সরে আসতে চায় না। উদ্দেশ্য শুধু মাঠের সাফল্য নয়, বরং কৌশলগতভাবে সৌদি প্রো লিগকে একটি বৈশ্বিকভাবে আকর্ষণীয় গন্তব্য হিসেবে প্রস্তুত করা।


ভিনিসিউস, সালাহ ও কাসেমিরো—তিনজনই ভিন্ন ধরনের খেলোয়াড়, কিন্তু বার্তাটি একটাই: সৌদি আরবের থামার কোনো ইচ্ছা নেই। গ্রীষ্ম আসছে দলবদলের বাজারও আরেকটি ভূমিকম্পের জন্য প্রস্তুত।

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন