ইউনূস-মোদির বৈঠক নিয়ে ধোঁয়াশা

১ দিন আগে
বিমসটেক সম্মেলনে ভারত-বাংলাদেশ সাইডলাইন বৈঠক হবে কি হবে না, সেটা এখনও অনিশ্চিত। আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি আসেনি কোনো দেশের পক্ষ থেকেই। অর্থনীতিবিদ এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা বলছেন, ইউনূস-মোদির সাইডলাইন বৈঠক হলে দু'দেশের টানাপোড়েন নিরসনে ভূমিকা রাখতে পারে। তাই এ বৈঠক হলে তা দেশের জন্য হতে পারে ইতিবাচক। অন্যদিকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে মিয়ানমারের পাশাপাশি ভারত-থাইল্যান্ডের সঙ্গে আলোচনা গুরুত্বপূর্ণ বলেও জানান তারা।

বাংলাদেশ ও ভারত সম্পর্কে চলছে টানাপোড়েন। আর এর মধ্যেই থাইল্যান্ডে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ৬ষ্ঠ বিমসটেক সম্মেলন। যাতে ভারতসহ দক্ষিণ এশিয়ার ৭টি দেশ অংশ নেবে।

 

ইতোমধ্যেই ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে এবারের সম্মেলনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সাইড লাইন বৈঠক হবে থাই প্রধানমন্ত্রী পেতংটার্ন সিনাওয়াত্রার সঙ্গে। তবে বাংলাদেশের সঙ্গে বৈঠক হবে কিনা এ নিয়ে এখনো রয়েছে ধোঁয়াশা।

 

কূটনীতিবিদরা এবার বিমসটেক সম্মেলনে সাইডলাইন বৈঠকগুলোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন। ভারতের পররাষ্ট্র নীতিতে আঞ্চলিক সহায়তাকে সুদৃঢ় করার বড় রকমের পরিবর্তন না আসাকে দুর্ভাগ্য উল্লেখ করে ইউনূস-মোদির বৈঠক দু'দেশের টানাপোড়েন নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে বলেও মনে করেন অর্থনীতিবিদ এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা।

 

ভিসা জটিলতা, বিনিয়োগ-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে আলোচনা এগিয়ে নিতে ঢাকাকে আরও অগ্রগামী হওয়ার পরামর্শ তাদের। অর্থনীতিবিদ ড. মাহফুজ কবির বলেন, প্রধান উপদেষ্টা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে একটি সাইডলাইন বৈঠক আয়োজনের চেষ্টা চালাতে হবে। যাতে ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ স্বাভাবিক গতিতে চলতে পারে।

 

আরও পড়ুন: বৈঠকের জন্য ঢাকা প্রস্তুত, দিল্লি প্রস্তুত কী না তারা বলবে: পররাষ্ট্রসচিব

 

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক অধ্যাপক ড. সাহাব এনাম খান বলেন, প্রধান উপদেষ্টা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হলে চলমান সম্পর্কের টানাপড়েন ও রাজনৈতিক অস্থিরতার অবসান হবে।

 

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের বিষয়ে মিয়ানমারের পাশাপাশি ভারত-থাইল্যান্ডের সঙ্গে আলোচনা গুরুত্বর্পূণ বলেও মত তাদের। বাণিজ্য-বিনিয়োগের পাশাপাশি যোগাযোগ মহাপরিকল্পনার আলোচনায় প্রধান উপদেষ্টার জোরালো ভূমিকা রাখার সুযোগ রয়েছে বলেও জানান তারা। ড. সাহাব এনাম খান বলেন, বিমসটেকের সম্লেলনে বিমসটেক ও আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের বিষয়ে আলোচনার সুযোগ তৈরি করা গেলে এ বিষয়ে একটি সমাধানে আসা সম্ভব।

 

অর্থনীতিবিদ ড. মাহফুজ কবির বলেন, দেশের বাণিজ্যিক অগ্রগতি অর্জনের জন্য বিমসটেকের সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে মুক্তবাণিজ্য চুক্তি দরকার। এ বিষয়ে থাইল্যান্ডের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করতে হবে। পরিবহন যোগাযোগের মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়নের জন্য সদস্যভুক্ত প্রতিটি দেশকে অংশগ্রহণের জন্য আহ্বান করতে হবে। যাতে করে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও অন্যান্য ঋণদাতা সংস্থা রয়েছে, তারা যেন এই মাস্টারপ্ল্যানটি বাস্তবায়নে এগিয়ে আসে।

 

উল্লেখ্য, এবারের সম্মেলনে বাংলাদেশকে পরবর্তী ২ বছরের জন্য বিমসটেকের সভাপতি হিসেবে ঘোষণা করা হবে।

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন