শীর্ষস্থানীয় শিল্পোন্নত দেশগুলোর গ্রুপ জি-৭এর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা কানাডার কুইবেকে বেশ কয়েক দিনের আলোচনার জন্য একত্রিত হচ্ছেন। অন্যান্য অনেক বিষয়ের সাথে গত তিন বছরের রাশিয়ার আগ্রাসনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ইউক্রেনকে সমর্থন করার বিষয়টিতেও মনোযোগ দেওয়া হবে এই বৈঠকে।
সৌদি আরবের জেদ্দায় দুই দেশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বৈঠকের পর ইউক্রেনের সাথে গোয়েন্দা তথ্য ভাগাভাগি ও নিরাপত্তা সহায়তা পুনরায় শুরু করার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এর ফলশ্রুতিতেই এই আলোচনা গতি পেয়েছে।
প্রায় আট ঘণ্টার আলোচনার পর মঙ্গলবার ইউক্রেন জানায়, তারা রাশিয়ার সাথে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের “তাৎক্ষণিক, অন্তর্বর্তীকালীন ৩০ দিনের যুদ্ধবিরতির” প্রস্তাব মেনে নিতে প্রস্তুত। ক্রেমলিনের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে বিষয়টি।
জার্মান চ্যান্সেলর ওলাফ শোলজ ৩০ দিনের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়ে বুধবার এক্স-এ বলেন, “ইউক্রেনের ন্যায়সঙ্গত শান্তির জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ও সঠিক পদক্ষেপ। আমরা ইউক্রেন ও যুক্তরাষ্ট্রের পাশে আছি এবং জেদ্দার প্রস্তাবকে স্বাগত জানাই। এখন পুতিনের ওপর বিষয়টি নির্ভর করছে।”
ক্রেমলিনের মুখপাত্র দমিত্রি পেসকভ বুধবার সাংবাদিকদের বলেন, রাশিয়া যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবের বিষয়ে ব্রিফিংয়ের অপেক্ষায় রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও মঙ্গলবার রাতে সাংবাদিকদের বলেন, ইউক্রেন যুদ্ধ অবসানের দিকে একটি দৃঢ় পদক্ষেপ নিয়েছে।
তিনি বলেন, “এই প্রস্তাব আমরা রাশিয়ানদের কাছে নিয়ে যেতে পারব বলে আশা করছি। তারা হ্যাঁ বলবে বলেই প্রত্যাশা আমাদের। তারা শান্তিকে হ্যাঁ বলবে। বল এখন তাদের কোর্টে।”
যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্ব দিতে রুবিওর সঙ্গে জেদ্দায় যোগ দিয়েছেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মাইক ওয়াল্টজ। তিনি বলেছেন, “আগামী দিনগুলোতে” তিনি রুশ নিরাপত্তা উপদেষ্টার সঙ্গে কথা বলবেন।
বৃহস্পতিবার নেটো মহাসচিব মার্ক রুট হোয়াইট হাউস পরিদর্শন করবেন। শান্তি প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রচেষ্টা হিসেবেই এই সমস্ত আলোচনা হচ্ছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেন্সকি যুক্তরাষ্ট্র-ইউক্রেন আলোচনায় অংশ নেননি। তবে মঙ্গলবার রাতের ভাষণে তিনি বলেন, এই যুদ্ধবিরতির পরিকল্পনা একটি "ইতিবাচক প্রস্তাব"।