আসন পুনরুদ্ধারে মরিয়া পার্থ, ঘাম ঝরাচ্ছে জামায়াত-ইসলামী আন্দোলনও

৪ সপ্তাহ আগে
দ্বীপজেলার ভোলার ভোলা-১ (সদর) আসনটি রাজনীতিক অঙ্গনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ আসনে যে দলই ক্ষমতায় আসুক এখান থেকেই নিয়ন্ত্রণ করা হয় জেলার রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সব কার্যক্রম। ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে হারিয়ে ভোলা-১ (সদর) আসনে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থ। এর পরের বিতর্কিত তিনটি নির্বাচনে প্রায় এক দশক আওয়ামী লীগ আসনটি দখল করে রাখলেও এবার নিজের দখলে নিতে মরিয়া বিজেপি চেয়ারম্যান। শরীক বিএনপিকে নিয়ে আটঘাট বেঁধে মাঠে নেমেছেন তিনি।

অন্যদিকে আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে প্রথমবারের মতো প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আসা জামায়াতে ইসলামী চায় চমক দেখাতে। গুরুত্বপূর্ণ এ আসনটিতে বিজয়ের জন্য সর্বশক্তি দিয়ে কাজ করছেন জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা। আর ১০ দলীয় জোট থেকে সরে যাওয়া ইসলামী আন্দোলন নিজেদের শক্তি ও সমর্থন বাড়াতে দিনরাত ছুটছেন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে। বিগতদিনে স্থানীয় ও জাতীয় নানা ইস্যুতে মাঠে সরব থাকা ইসলামী আন্দোলন তার সুফল ঘরে তুলতে চায়।


জানা যায়, গুরুত্বপূর্ণ ভোলা-১ আসনে বিজেপির সাবেক চেয়ারম্যান নাজিউর রহমান মঞ্জু, বিএনপির মোশারেফ হোসেন শাজাহান ও আওয়ামী লীগের তোফায়েল আহমেদের মতো হেভিওয়েট নেতারা ছিলেন এখানকার সংসদ সদস্য। প্রবীণ নেতাদের দখলে থাকা এ আসনটিতে ২০০৮ সালে নির্বাচনে অংশ নিয়ে প্রথমবারই সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন নাজিউরপুত্র ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থ। বিএনপির জোটের প্রার্থী হয়ে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করেন তিনি। তরুণ প্রার্থী  ব্যারিস্টার পার্থ আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুনকে বিপুল ভোটে পরাজিত করে তাক লাগিয়ে দেন। বিরোধী দলের তরুণ এই এমপি জনগণের কথা বলে নবম সংসদে বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করেছিলেন। নজর কেড়েছিলেন তৎকালীন সরকার দলেরও। ফলে ইতিবাচক সারা পেয়েছেন জনগণের কাছ থেকে।


এদিকে দীর্ঘদিন পর আবারও ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে পুরনো বিএনপি জোটের প্রার্থী হয়েছেন ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান। তবে এবারের নির্বাচনী প্রতীক গরুর গাড়ি। এ আসনে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলাম নবী আলমগীরকে বিএনপি মনোনয়ন দিলেও পরে তা প্রত্যাহার করে নেয়। মনোনয়নপত্র দাখিলের পর থেকে প্রার্থিতা চূড়ান্ত করা নিয়ে বিএনপি ও বিজেপির মধ্যে টানাপড়েন ছিল। তবে দুই দলের বিরোধ কাটিয়ে বিএনপি-বিজেপি এখন একসঙ্গে প্রচারণার মাঠে।


আরও পড়ুন: এখনই মাথা এত গরম থাকলে চৈত্র এলে কী করবেন, জামায়াত আমিরের প্রশ্ন


গত ২৪ জানুয়ারি বিশাল শো- ডাউনের মধ্যদিয়ে নির্বাচনী কার্যক্রম শুরু করেন ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থ। শরীক বিএনপিকে সঙ্গে নিয়ে নির্বাচনী মাঠে সরব পার্থর বিজেপির নেতাকর্মীরা। সমর্থন আদায়ে হাট-বাজার, মাঠঘাট চষে বেড়াচ্ছেন। প্রচার প্রচারণায় তিনি ভোলাকে এগিয়ে নিতে, ভোলা বরিশাল সেতু নির্মাণসহ সার্বিক উন্নয়নের জন্য জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্ব করার মতো যোগ্য-প্রার্থীকে নির্বাচিত করার আহ্বান জানান আন্দালিভ রহমান পার্থ।


তিনি বলেন, প্রত্যেক প্রার্থী প্রতিশ্রুতি দেন, ভোটাররা বিশ্বাস করে কাকে সেটাই মুখ্য ব্যাপার। আমার বিশ্বাস ভোটাররা তাকে বিশ্বাস করবেন। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সেটার (বিশ্বাসের) ফলাফল আসবে বলে মনে করেন তিনি।


প্রচার-প্রচারণায় জনগণের ব্যাপক সারা পাচ্ছেন উল্লেখ করে পার্থ আরও বলেন, আমাকে বিএনপি সমর্থন করেছে, তারা সক্রিয় কাজ করছে। আমি না দলের না মার্কার, আমি সবার। তাই বিজয়ের বিষয়ে আশাবাদী তিনি।


আরও পড়ুন: প্রশাসনের ‘পক্ষপাতিত্ব’, নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন স্বতন্ত্র প্রার্থী


এ দিকে বিজেপির পার্থর জন্য এবারের নির্বাচনে বড় ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়াতে পারে জামায়াতে ইসলামী অধ্যক্ষ মো. নজরুল ইসলাম। দীর্ঘদিন ধরে তিনি ভোটের মাঠে রয়েছেন।


নজরুল ইসলাম জানান, নির্বাচনী পরিবেশ এখন পর্যন্ত ভালো আছে। এমন থাকলে মানুষ ভোট দিতে আসবেন।


প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ব্যারিস্টার পার্থর বিষয়ে নজরুল বলেন, ‘তিনি জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্ব করেছেন তার দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা রয়েছে। আমি মনে করি দক্ষ ও যোগ্যতা অনুসারে পাঁচ বছরে ভোলার যে মৌলিক সমস্যাগুলোর একটাতেও ভূমিকা রাখেননি। এজন্য মানুষ এখন পরিবর্তন চায়। মানুষ আমাদের জামায়াতে ইসলামীর কাছে আশাবাদী। যে মৌলিক সমস্যাগুলো আছে সেগুলো অবশ্যই পূরণ করবে। এজন্য আমরা ব্যাপক সারা পাচ্ছি।’


তিনি বলেন, ‘আমরা আশাবাদী আগামীর নির্বাচনে বিজয় লাভ করব।’


আরও পড়ুন: ঢাকা-৮ আসনে ভোটার হওয়ার কষ্ট জানালেন শবনম ফারিয়া


অন্যদিকে মাঠে প্রচার-প্রচারণায় বেশ সরব ইসলামী আন্দোলনও। বিগত দিনে স্থানীয় ও জাতীয় নানা ইস্যুতে এ দলের নেতাকর্মীরা মাঠে সক্রিয় ছিলেন। নির্বাচনে সেটি কাজে লাগাতে চায় দলটি।


ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মাওলানা মো. ওবায়দুর রহমান জানান, তারা দীর্ঘদিন ধরে ধারাবাহিকভাবে নির্বাচনী কার্যক্রম চালাচ্ছেন। হাতপাখার প্রতি মানুষের ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে। মাঠের প্রচারণাও উৎসাহ উদ্দীপনা দেখা গেছে। তাই আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিজয়ের বিষয়ে আশাবাদী তিনি।


এ দিকে জাতীয় পার্টি (এরশাদ) প্রার্থী হিসাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা মো. আকবর হোসাইনের সাংগঠনিক কার্যক্রমকে দুর্বল মনে করছেন এলাকাবাসী। এখন পর্যন্ত মাঠের প্রচারে দেখা যায়নি তাকে।


তবে এ বিষয়ে আকবর হোসাইন জানান, তিনি গ্রাম-গঞ্জে প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন। আগামী ১ ফেব্রুয়ারি মাইকে দলের প্রচার শুরু করবেন।


আরও পড়ুন: জনতার মুখোমুখি ঝালকাঠি-২ আসনের এমপি প্রার্থীরা


ভোলা-১ (সদর) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সংখ্যা আটজন। তারা হলেন: বিএনপি জোটের বিজেপি চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থ, জামায়াতে ইসলামীর মো. নজরুল ইসলাম, ইসলামী আন্দোলনের মাওলানা মো. ওবায়দুর রহমান, ইসলামীক ফ্রন্টের মো. আশ্রাফ আলী, গণঅধিকার পরিষদের মো. আইনুর রহমান জুয়েল মিয়া, এনপিপির কবি মো. মিজানুর রহমান, জাতীয় পাটির মো. আকবর হোসাইন ও স্বতন্ত্র প্রার্থী রফিজুল হোসেন।


এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা চার লাখ এক হাজার ২৮৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার দুই লাখ ৬ হাজার ৮৩৮ ও নারী ভোটার সংখ্যা এক লাখ ৯৪ হাজার ৪৪৫ জন।

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন