আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর পাকিস্তান ছাড়লেন জেডি ভ্যান্স

১৮ ঘন্টা আগে
ইরানের সঙ্গে প্রায় ২১ ঘণ্টার ম্যারাথন আলোচনার পরও সমঝোতায় পৌঁছাতে ব্যর্থ হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে পাকিস্তান ছেড়েছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স।

ইরানের সাথে কোনো শান্তিচুক্তি না হওয়ায় রোববার (১২ এপ্রিল) সকালে এয়ারফোর্স টু উড়োজাহাজে করে পাকিস্তানের ইসলামাবাদ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে রওনা হন তিনি।

 

সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, পাকিস্তান সময় আজ রোববার সকাল ৭টা ৮ মিনিটে (জিএমটি ২টা ০৮ মিনিট) ভ্যান্স ‘এয়ারফোর্স টু’ উড়োজাহাজে চড়েন। উড়োজাহাজে ওঠার সময় সিঁড়ির ওপর থেকে তিনি দায়িত্বরত পাকিস্তানি কর্মকর্তাদের উদ্দেশে হাত নেড়ে বিদায় জানান। মার্কিন প্রতিনিধিদলের বাকি সদস্যরাও সেখান থেকেই ওয়াশিংটনের উদ্দেশ্যে রওনা হন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়।

 

আরও পড়ুন: ইরানের সঙ্গে সমঝোতা ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্রে ফিরছে মার্কিন প্রতিনিধিদল

 

এর আগে দীর্ঘ আলোচনার পর এক সংবাদ সম্মেলেনে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট বলেন, খারাপ খবর হলো আমরা কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে পারিনি। আমি মনে করি, এটি যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে ইরানের জন্য অনেক বেশি খারাপ খবর।

 

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এবং ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট।  পাকিস্তান অসাধারণ ভূমিকা রেখেছেন বলে জানান ভ্যান্স।

 

আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চাভিলাষী শর্ত মেনে নেয়নি তেহরান: ইরানি গণমাধ্যম

 

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র গুরুত্বপূর্ণ শর্তগুলো স্পষ্টভাবে ইরানকে জানিয়েছে। তবে ইরান তাতে রাজি হয়নি। ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে বলে জানান ভ্যান্স। তবে ভবিষ্যতে ইরান যাতে পরমাণু অস্ত্র তৈরি না করে সে জন্য দৃঢ় অঙ্গীকার প্রয়োজন। তবে সেটা এখনো প্রতীয়মান হয়নি। এমনটা হবে বলে যুক্তরাষ্ট্র আশা করছে।

 

ইরানের পরমাণু প্রকল্প এবং ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে গত দুই যুগ ধরে দেশটির সঙ্গে দ্বন্দ্ব চলছে যুক্তরাষ্ট্রের। এ দুই ইস্যুতে গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ২১ তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সংলাপ চলে। কোনো প্রকার সমঝোতা চুক্তি ছাড়াই ২৭ ফেব্রুয়ারি শেষ হয় সেই সংলাপ।

 

এর পরদিন ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। ওয়াশিংটনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে একই সময়ে ইরানে সামরিক অভিযান ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ শুরু করে ইসরায়েলও।

 

সংলাপ ও কূটনৈতিক পন্থায় উত্তেজনা প্রশমনের জন্য গত ৭ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। তারই ধারাবাহিকতায় পাকিস্তানে আলোচনায় বসেছিলেন দুই দেশের সরকারি প্রতিনিধিরা, যা কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হলো।

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন