চলতি মৌসুমে ঘরোয়া শিরোপার দৌড়ে থাকা আল-নাসরের সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) নগর প্রতিদ্বন্দ্বীদের বিপক্ষে মাঠে নামার কথা। তবে ওই ম্যাচে পর্তুগিজ মহাতারকা রোনালদো খেলবেন কি না, তা এখনও অনিশ্চিত।
এর আগে দাবি করা হয়েছিল, অবনমন অঞ্চলের ঠিক ওপরে থাকা আল-রিয়াদের বিপক্ষে ম্যাচে রোনালদোকে বিশ্রাম দেওয়া হতে পারে। কারণ হিসেবে বলা হচ্ছিল টানা ম্যাচের চাপ সতর্কভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। শারীরিকভাবে চূড়ান্ত ফিট থাকলেও ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে আর প্রতিটি ম্যাচের প্রতিটি মিনিট খেলা তার পক্ষে সম্ভব নয়।
তবে পর্তুগিজ দৈনিক আ বোলা সেই দাবি নাকচ করেছে। তাদের মতে, রোনালদোর সম্ভাব্য অনুপস্থিতি 'শারীরিক ব্যবস্থাপনার সঙ্গে কোনোভাবেই সম্পর্কিত নয়'। আল-নাসরও এখনো বর্তমান সৌদি চ্যাম্পিয়ন আল-ইত্তিহাদের বিপক্ষে আগামী শুক্রবারের (৬ ফেব্রুয়ারি) ম্যাচের দিকেই পুরো মনোযোগ দেয়নি। এই ম্যাচে অবশ্যই আল নাসর তাদের সেরা খেলোয়াড়কে মাঠে দেখতে চাইবে।
আ বোলা আরও জানায়, 'পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড (পিআইএফ) যেভাবে গত তিন বছর ধরে প্রতিনিধিত্ব করা ক্লাব আল-নাসরকে পরিচালনা করছে, তাতে রোনালদো অসন্তুষ্ট। বিশেষ করে একই ফান্ডের অধীনে থাকা প্রতিদ্বন্দ্বী ক্লাবগুলোর সঙ্গে তুলনা করলে।'
আরও পড়ুন: ভারতকে হারিয়ে তৃপ্ত বাটলার, খেলোয়াড়দের ভাসালেন প্রশংসায়
আল-নাসরের অধিনায়ক রোনালদো তার দলে পর্যাপ্ত বিনিয়োগ না হওয়ায় হতাশ। শীতকালীন দলবদলের বাজারে স্কোয়াড শক্তিশালী করতে প্রধান কোচ জর্জে জেসুস এখনও প্রত্যাশিত আর্থিক সহায়তা পাননি। এখন পর্যন্ত আল-নাসরের একমাত্র সংযোজন ২১ বছর বয়সী ইরাকি মিডফিল্ডার হায়দার আবদুলকারিম।
আল-নাসরে রোনালদোর দুই পর্তুগিজ সতীর্থ স্পোর্টিং ডিরেক্টর সিমাও কৌতিনহো এবং সিইও জোসে সেমেদো, বোর্ড অব ডিরেক্টরসের সিদ্ধান্তে চলতি মাসের শুরুতেই কার্যত 'ক্ষমতাহীন' হয়ে পড়েছেন বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
রোনালদোর বিশ্বাস, বর্তমানে আল-নাসর যেভাবে পরিচালিত হচ্ছে তা আল-হিলালের তুলনায় 'সাদামাটা', বাজারে বেশি সক্রিয় থাকা আল-হিলাল বর্তমানে সৌদি প্রো লিগের শীর্ষে। এমনকি গুঞ্জন রয়েছে, তারা আল-ইত্তিহাদ থেকে রোনালদোর সাবেক রিয়াল মাদ্রিদ সতীর্থ করিম বেনজেমাকে দলে টানতে পারে। ৩৮ বছর বয়সী এই স্ট্রাইকারের সঙ্গে এখনও আল ইত্তিহাদের নতুন চুক্তি হয়নি।
তুরস্কের কিছু প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ফরাসি ফরোয়ার্ড বেনজেমাকে দলে নেওয়ার প্রস্তাবের বিরোধিতা করছেন রোনালদো, কারণ তার মতে এতে 'ন্যায্য প্রতিযোগিতার পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।' যদিও এসব উদ্বেগ সত্ত্বেও দলবদল নিয়ে আলোচনা চলছেই।
রোনালদোই প্রথম নন যিনি আল নাসরের প্রকল্প নিয়ে প্রকাশ্যে অসন্তোষ প্রকাশ করলেন। জানুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে তার কোচ জর্জে জেসুস মন্তব্য করেছিলেন যে, তার বর্তমান ক্লাবের 'আল-হিলালের মতো রাজনৈতিক ক্ষমতা নেই।' এর আগে জেসুস আল হিলালে কোচিং করিয়েছিলেন।
এই মন্তব্যের পর আল-হিলাল লিগে অভিযোগ জানায় এবং দাবি করে, পর্তুগিজ কোচকে ছয় মাস থেকে এক বছরের জন্য নিষিদ্ধ করা হোক। রোনালদো তার কোচের বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করেন।
রিয়াল মাদ্রিদ, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ও জুভেন্টাসের সাবেক সুপারস্টার রোনালদো সৌদি আরবে ব্যাপক প্রভাব রাখেন। ২০২৩ সালে মধ্যপ্রাচ্যে পাড়ি দিয়ে তিনিই মূলত এই তারকা স্থানান্তরের ধারা শুরু করেছিলেন।
আরও পড়ুন: মেসি বিশ্বকাপ খেলবেন কি–না, যা বললেন মায়ামির কোচ
আল-নাসরের সাবেক কোচ স্তেফানো পিওলি একবার রোনালদোর বিশেষ মর্যাদা নিয়ে বলেন, 'আমি যদি আধঘণ্টা আগে আসি, সে আসে ২৫ মিনিট আগে। সব সময় বাসে ওঠে সবার আগে। সে একজন পারফেকশনিস্ট, নিজের কাছ থেকে এবং অন্যদের কাছ থেকেও অনেক কিছু দাবি করে। সে দলের জন্য বাঁচে, সাহায্য করে, পরামর্শ দেয়। কখনো কখনো আমি তাকে খেলোয়াড়দের সঙ্গে কথা বলতে দিই।'
আল নাসরের সঙ্গে ২০২৭ সালের গ্রীষ্ম পর্যন্ত চুক্তি নবায়ন করেছেন রোনালদো। সৌদি প্রো লিগ কর্তৃপক্ষ তাকে সন্তুষ্ট ও সম্পৃক্ত রাখতেই আগ্রহী। তারা কোনোভাবেই চাইবে না, এই আইকনিক তারকা ধর্মঘটে যান বা এমন কিছু করেন যা লিগের সুনাম ক্ষুণ্ন করতে পারে।

২ সপ্তাহ আগে
৫






Bengali (BD) ·
English (US) ·