সরেজমিনে বিভিন্ন বাগান ঘুরে দেখা গেছে, চাষীরা এখন দম ফেলার সময় পাচ্ছেন না। মুকুলকে পোকার আক্রমণ থেকে বাঁচাতে এবং ঝরা রোধে নিয়মিত বালাইনাশক স্প্রে ও পানি সেচ দিচ্ছেন তারা। বাগান মালিক দীপক দেওয়ান, বিজয়া খীসা ও সুজন চাকমা জানান, চলতি মৌসুমে কুয়াশার প্রকোপ কম থাকায় মুকুল অনেক সতেজ রয়েছে। শ্রমিকরা দিনরাত গাছের যত্নে সময় পার করছেন। তবে পোকার আক্রমণ ও আকস্মিক প্রাকৃতিক দুর্যোগ নিয়ে মনে কিছুটা শঙ্কাও রয়েছে তাদের।
খাগড়াছড়ির আবহাওয়া ও মাটি আম চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। এখানকার আম্রপালি আম মিষ্টি ও আকারে বড় হওয়ায় সারা দেশে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। চাষীদের ভাষ্যমতে, খরচ কম কিন্তু লাভ বেশি হওয়ায় আম চাষ এখন পাহাড়ের প্রধান অর্থকরী ফসলে পরিণত হয়েছে। এমনকি এখানকার নিরাপদ ও বিষমুক্ত আম বিদেশে রপ্তানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব বলে তারা মনে করছেন।
খাগড়াছড়ি ফলজ বাগান মালিক সমিতির উপদেষ্টা অনিমেষ চাকমা রিংকু বলেন, 'খাগড়াছড়িতে প্রায় ৫ হাজার আম চাষী রয়েছেন। তবে সুষ্ঠু বাজার ব্যবস্থাপনা, সরকারি ট্যাক্স এবং পথে পথে চাঁদাবাজির কারণে চাষীরা প্রায়ই ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কায় থাকেন।'
আরও পড়ুন: মুকুলে মুকুলে ভরে উঠেছে গাছ, মৌলভীবাজারে আমের বাম্পার ফলনের আশা
কৃষি বিভাগের দেওয়া তথ্যমতে, চলতি বছর খাগড়াছড়ি জেলায় প্রায় ৫ হাজার হেক্টর জমিতে আমের আবাদ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৮০ হাজার মেট্রিক টন। জেলাজুড়ে প্রায় ৫ হাজার আম চাষী আম্রপালি, রাংগোয়াই ও রুপালীসহ প্রায় ৫৪ জাতের দেশি-বিদেশি আমের চাষ করছেন। মূলত আম্রপালি আমের ব্যাপক ফলন ও চাহিদার কারণেই পাহাড়ের এই বিশাল অঞ্চল এখন আমের রাজধানী হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক নাছির উদ্দিন চৌধুরী জানান, মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের দক্ষ করে তুলতে নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। ঘন কুয়াশা না থাকায় এবার ফলন গত বছরের চেয়ে ভালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। নিরাপদ আম উৎপাদন নিশ্চিত করতে পারলে স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে তা বিদেশেও রফতানি করা যাবে।

৪ সপ্তাহ আগে
৬








Bengali (BD) ·
English (US) ·