আদানির বিদ্যুতে বাংলাদেশের গচ্চা ১০ বিলিয়ন ডলার

৪ সপ্তাহ আগে
আদানির বিদ্যুতে বাংলাদেশের গচ্চা ১০ বিলিয়ন ডলার। বছরে বাড়তি গুণতে হচ্ছে ৪০০ থেকে ৫০০ মিলিয়ন ডলার।

রোববার (২৫ জানুয়ারি) বিকেলে বিদ্যুৎ ভবনে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরে চুক্তি পর্যালোচনা সংক্রান্ত জাতীয় কমিটি।


চুক্তিতে দুর্নীতির তথ্য আদানিকে জানানোর পাশাপাশি সিঙ্গাপুরে সালিশি আদালতে আইনি লড়াইয়ে যাওয়ারও পরামর্শ দেয় কমিটি।
 

দেশে বিদ্যুতের প্রায় ১০ শতাংশের জোগান আসে ভারতের গোড্ডায় নির্মিত আদানির কয়লাভিত্তিক কেন্দ্র থেকে। কিন্তু শুরু থেকেই চুক্তি, কয়লার মান ও দাম নিয়ে আছে বিতর্ক।


অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পর ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে গঠন করা হয় আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিশেষ বিধানের আওতায় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের চুক্তি পর্যালোচনা কমিটি।

 

আরও পড়ুন: আদানি গ্রুপের সিঙ্গাপুরে সালিশি কার্যক্রমে হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা


কমিটির চূড়ান্ত প্রতিবেদন নিয়ে রোববার বিদ্যুৎ ভবনে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, বিশেষ বিধানে চুক্তিগুলো জাতীয় স্বার্থের চেয়ে অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে গোষ্ঠী স্বার্থকে। বিশেষ আইনের অপব্যবহার, যোগসাজশ, দুর্নীতি, রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণের ফলে পিডিবি এখন দেউলিয়ার পথে।


সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় কমিটি জানায়, ৪০ শতাংশ অর্থ বাড়তি দেয়া হচ্ছে আদানিকে।


আদানি চুক্তিতে সম্পৃক্ত বিদ্যুৎ খাতের অনেকের পকেটে মিলিয়ন ডলার ঢুকেছে বলে দাবি করে পর্যালোচনা কমিটি।


আদানির চুক্তি বাতিল হবে কি-না, কিংবা সিঙ্গাপুরের সালিশি আদালতে মামলা হবে কি-না, তার ভার অন্তর্বর্তী সরকার নয়, পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের দিকেই ঠেলে দেয় পর্যালোচনা কমিটি।


কমিটির প্রধান বিচারপতি মঈনুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, বল এখন বিদ্যুৎ বিভাগের কোর্টে। মামলার বিষয়ে তাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে। যেহেতু বর্তমান সরকারের সময় কম, আমরা চাইবো পরবর্তী সরকারও যেন এ বিষয়ে যথাযথ উদ্যোগ নেয়।


বিলম্ব করলে আন্তর্জাতিক আদালতে বাংলাদেশের অবস্থান দুর্বল হতে পারে বলে সতর্ক করেছে কমিটি। 


কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতের অন্যান্য উৎস থেকে কেনা বিদ্যুতের তুলনায় আদানির বিদ্যুতে প্রতি ইউনিটে ৪-৫ সেন্ট বেশি দেয়া হচ্ছে। ২০২৫ সাল নাগাদ এই দাম ১৪ দশমিক ৮৭ সেন্টে দাঁড়াবে। এর ফলে চুক্তির ২৫ বছরে প্রতি বছর বাংলাদেশকে প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ মিলিয়ন ডলার অতিরিক্ত পরিশোধ করতে হবে। 

 

আরও পড়ুন: ইকোনমিক টাইমসের প্রতিবেদন /আদানি পাওয়ারের সম্পূর্ণ বকেয়া পরিশোধ করল বাংলাদেশ

 

এদিকে আদানি পাওয়ার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, পর্যালোচনা কমিটির প্রতিবেদন বিষয়ে আমাদের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করা হয়নি, আমাদের মতামত জানতে বাংলাদেশের কোনো কর্তৃপক্ষ আমাদের সাথে যোগাযোগ করেনি। যত দ্রুত সম্ভব বকেয়া পরিশোধে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে আদানি।


উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ সেপ্টেম্বর বিচারপতি মঈনুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে এই ৫ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছিল, যারা গত ২০ জানুয়ারি তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে জমা দেয়। 

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন