আজকের পর আমাদের প্রার্থীরা কোনো দলের না, ১১ দলীয় ঐক্যের: নাহিদ

২ দিন আগে
৪৭টি আসন ফাঁকা রেখে ২৫৩ আসনে সমঝোতা করেছে জামায়াত-এনসিপিসহ ১১ দলীয় নির্বাচনী জোটের ১০টি দল। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দেয়ার জন্য আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, আজকের পর থেকে আমাদের কোনো দলের প্রার্থী থাকবে না, প্রার্থী হবে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ জোটে থাকবে না- এমন গুঞ্জনের মাঝেই বৃহস্পতিবার রাতে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে ১১ দলীয় নির্বাচনী সমঝোতা জোটের দলগুলো। দুপুরে ১০ দলের শীর্ষ নেতারা বৈঠক শেষে জানান সব দলই ঐক্যবদ্ধ রয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হয়নি ইসলামী আন্দোলন। শেষমেশ দলটিকে ছাড়াই সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন জোট নেতারা। জানান, সমঝোতা হওয়া আসনগুলোতে এখন থেকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবে জোটের দলগুলো। প্রত্যয় ব্যক্ত করেন অভ্যুত্থানের চেতনা সমুন্নত রাখার।


নাহিদ ইসলাম বলেন, আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবো, ফলে সারা বাংলাদেশের সব আসনে আমাদের কোনো দলের প্রার্থী থাকবে না, আজকে পর থেকে সেটা আমাদের এই নির্বাচনী সমঝোতা বা ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী হিসেবে বিবেচিত হবে। আমরা সবাই সবাইকে সহযোগিতার মাধ্যমে জনগণের পক্ষে, হ্যাঁ-এর পক্ষে আমরা এই নির্বাচনকে ফলাফল নিয়ে আসবো এবং বাংলাদেশ সামনের দিকে এগিয়ে যাবে।

 

আরও পড়ুন: ১১ দলীয় জোটে কোন দল কত আসনে লড়ছে


নাহিদ বলেন, আমরা সংস্কারের পক্ষে থাকা, বাংলাদেশের আজাদির পক্ষে থাকা এবং বৈষম্য বিরোধী দুর্নীতিবিরোধী বাংলাদেশের পক্ষে থাকা অনেকগুলো রাজনৈতিক দল একত্রে একটি প্লাটফর্মে এসেছি। যেখানে আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে আসন্ন জাতীয় নির্বাচন এবং গণভোটে অংশগ্রহণ করব বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ফলে এটা আমাদের এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত, ঐতিহাসিক যাত্রা।


নাহিদ বলেন, এটা যেমন নির্বাচনী সমঝোতা, একই সাথে এর রাজনৈতিক গুরুত্বও অপরিসীম। কারণ গণ-অভ্যুত্থানের পরে আমরা আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে এগিয়ে যেতে চাচ্ছি। আসন্ন নির্বাচনে এই পরীক্ষার মধ্য দিয়ে আমাদেরকে উৎরাতে হবে।

 

সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর ড. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের দলগুলোর মধ্যে কারা কতটি আসনে লড়বেন সেটা জানান। তিনি বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে জোটভুক্ত দলগুলোর মধ্য থেকে জামায়াতে ইসলামী ১৭৯টি, এনসিপি ৩০টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২০টি, খেলাফত মজলিস ১০টি, এলডিপি ৭টি, নেজামে ইসলাম পার্টি ২টি, আমার বাংলাদেশ পার্টি ৩টি, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি ২টি আসনে লড়বে।


সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, ১১ দলীয় ঐক্যে বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন এবং জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টিও থাকছে। তবে তাদের জন্য এই মুহূর্তে আসন বন্টন করা যায়নি। পরবর্তীতে আলোচনা করা হবে বলেও জানানো হয়।
 

ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গে সমঝোতা এখনো না হওয়ায় এই জোটে দলটি শেষ পর্যন্ত থাকবে কিনা তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে দলগুলোর মধ্যে বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা হলেও চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছতে পারেনি।


গত কয়েকদিন ধরে জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের মধ্যে আসন সংখ্যা নিয়ে টানাপোড়েন চলছিল। এরমধ্যে গুঞ্জন ওঠে ১১ দলীয় জোটে থাকছে না ইসলামী আন্দোলন।


এমন পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার দুপুরে মগবাজারে জামায়াতের অফিসে ইসলামী আন্দোলনকে ছাড়াই ১০ দলের শীর্ষ নেতারা বৈঠকে বসেন। বৈঠক শেষে কথা বলেন শীর্ষ নেতারা। ১১ দলীয় জোট ভাঙবে না বলে আশাবাদী ব্যক্ত করেন তারা।

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন