আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধকরণ বিলে যা থাকছে

২ ঘন্টা আগে
প্রতিদিন পাঠকের কাছে দেশের আলোচিত ঘটনা, রাজনৈতিক উত্তাপ, অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, সমাজের পরিবর্তন এবং বিশ্বমঞ্চের নতুন বার্তা তুলে ধরে সংবাদপত্রগুলো। তথ্যপিপাসুদের তথ্যের চাহিদা মেটাতে সময় সংবাদ দেশের প্রধান প্রধান সংবাদপত্রের গুরুত্বপূর্ণ শিরোনাম পাঠকের সামনে তুলে ধরছে। এক নজরে জেনে নিন দেশের প্রধান সংবাদপত্রগুলোর প্রতিবেদন।

দেশের শীর্ষস্থানীয় জাতীয় পত্রিকায় মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) প্রকাশিত কিছু খবর নিচে তুলে ধরা হলো।

 

৪ হাজার কোটি টাকায় কেনা ইভিএম এখন গলার কাঁটা - দৈনিক প্রথম আলোর প্রথম পাতার খবর এটি। 


প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৮ সালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় কেনা দেড় লাখ ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) নির্বাচন কমিশনের কাছে এখন বোঝা। প্রায় চার হাজার কোটি টাকায় কেনা এসব যন্ত্র ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।


মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় ইভিএমগুলো পুড়ে ফেলতে (ডিসপোজার) চায় নির্বাচন কমিশন (ইসি), কিন্তু এখন পোড়াতেও পারছে না। কারণ, ইভিএম কেনাকাটায় দুর্নীতির অভিযোগ থাকায় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তদন্ত চলছে। মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক কার্যালয়ের নিরীক্ষা (অডিট) আপত্তি রয়েছে। যন্ত্রগুলো পুড়লে নতুন ঝামেলায় পড়তে হতে পারে ভেবে ইসি সিদ্ধান্ত দিতে পারছে না। তা ছাড়া এগুলো পোড়াতে হলে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নিতে হবে।


 

 


পুলিশ কমিশন আরও দুর্বল হওয়ার শঙ্কা- দৈনিক প্রথম আলোর প্রথম পাতায় প্রকাশিত আরেকটি সংবাদ এটি।


প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, পুলিশে সংস্কারের জন্য অন্তর্বর্তী সরকার যে 'পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশ-২০২৩' জারি করেছিল, তা সংশোধন করে জাতীয় সংসদে বিল হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশের সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, অধ্যাদেশে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) নিয়োগে পুলিশ কমিশনের সুপারিশের বিধান ছিল। সেটি বাদ দিতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

 

অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা ১৩৩ অধ্যাদেশ নিয়ে মন্ত্রণালয়ভিত্তিক পর্যালোচনা ও পরামর্শ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশের ১২ ধারা অনুযায়ী, কমিশনের কাজ হবে আইজিপি নিয়োগের সুপারিশ করা। রাষ্ট্রের অন্যতম তাৎপর্যপূর্ণ এই নিয়োগ কমিশনের হাতে থাকা যুক্তিসংগত নয়। আইজিপি নিয়োগে কমিশনের সুপারিশের বিধানটি বাদ দেওয়া যেতে পারে।


হামের প্রকোপে শিশুমৃত্যু নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ - দৈনিক বণিকবার্তায় প্রকাশিত সংবাদ এটি। 


প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস আজ। স্বাস্থ্যসচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্যে প্রতি বছর ৭ এপ্রিল বিশ্বজুড়ে দিবসটি পালিত হয়। এ বছর বাংলাদেশে বিশেষভাবে গুরুত্ব পাচ্ছে হামের বাড়তে থাকা প্রকোপ এবং এর ফলে শিশুমৃত্যুর উদ্বেগজনক পরিস্থিতি।

 

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্যে জানা গেছে, নতুন করে আরো সাত শিশুর মৃত্যু হয়েছে হাম ও এর উপসর্গে। একই সঙ্গে সন্দেহজনক হাম নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে আরো ৫৯৭ শিশুকে। এছাড়া নতুন করে ১৮০ শিশুর দেহে হাম শনাক্ত হয়েছে, যা পরিস্থিতির ভয়াবহতা আরো স্পষ্ট করে তুলছে।


গবেষণা ও পরিকল্পনায় ঘাটতি, রোগ প্রতিরোধে পিছিয়ে দেশ - দৈনিক সমকালে প্রকাশিত সংবাদ এটি।


প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্বাস্থ্য খাতে গবেষণা ও সুষ্ঠু পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না নেওয়ায় রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থায় পিছিয়ে পড়ছে দেশ। সংক্রামক ও অসংক্রামক- উভয় ধরনের রোগে সঠিক চিকিৎসার অভাবে ঘটছে অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু। সাম্প্রতিক সময়ে হামের বিস্তার দেশের স্বাস্থ্য খাতের নাজুক চিত্র আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। সোমবার পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ছয় হাজার রোগী হামের উপসর্গ নিয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ১৩০ জনের।


 

 


এমন প্রেক্ষাপটে আজ মঙ্গলবার পালিত হচ্ছে বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস। প্রতি বছর দিবসটি উপলক্ষে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা একটি প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করে। এবারের প্রতিপাদ্য ‘স্বাস্থ্যসেবায় বিজ্ঞান, সুরক্ষিত সকল প্রাণ।’ এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবায় বিজ্ঞানভিত্তিক উদ্যোগ জোরদার করে সবার সুরক্ষা নিশ্চিত করায় জোর দেয়া হয়েছে।

 

কূটনীতির নতুন পরীক্ষা শুরু - দৈনিক যুগান্তরের প্রধান শিরোনাম এটি। 


প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ পালটে দিয়েছে পুরো বিশ্বকে। বৃহৎ শক্তিগুলো যেখানে নানা শক্তি প্রদর্শনে ব্যস্ত, সেখানে সব দেশকেই এখন বিদ্যমান বাস্তবতায় তার ‘কৌশলগত’ অবস্থান স্পষ্ট করতে হচ্ছে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ইন্দো-প্যাসিফিক নীতিতে বাংলাদেশ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। দেশটির সঙ্গে করা বাণিজ্যচুক্তির সফল বাস্তবায়ন ছাড়াও পর্দার আড়ালে বলবৎ আছে ওয়াশিংটনের নানা চাপও। দক্ষিণ এশিয়ার এই অঞ্চলে চীনের কোনো আধিপত্যও দেখতে চায় না যুক্তরাষ্ট্র। অপরদিকে ইন্দো-প্যাসিফিক ঘিরে ভারতসহ অপরাপর শক্তিধর দেশগুলোও যার যার জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষার প্রশ্নে অটল।


 

 


এই যখন অবস্থা, তখন বাংলাদেশও এই ঘেরাটোপের বাইরে নেই। ঢাকাকেও তার জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষা করাসহ নতুন সরকারের ঊষালগ্নে অনেক কিছু আমলে নিতে হচ্ছে। বিশেষ করে প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের নতুন মাত্রায় পৌঁছাতে বিএনপি সরকারের ইতিবাচক অবস্থান বেশ স্পষ্ট। যদিও ভারতের দিক থেকে নির্বাচনের আগেই বিএনপিকে অনেকটা আপন করে নেওয়া হয়। খালেদা জিয়ার জানাজার দিন জিয়া পরিবারকে সমবেদনা জানাতে ঢাকায় ছুটে আসেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। এমনকি খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে ভারতের পার্লামেন্টে শোকপ্রস্তাব গ্রহণ করা হয়। এছাড়া বিএনপি সরকারের যাত্রা শুরু হওয়ার পর থেকে প্রভাবশালী প্রতিবেশী দেশটির বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক অবস্থান আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

 

লোডশেডিং ভোগাবে আরও এক সপ্তাহ - দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রথম পাতার খবর এটি।


প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গরম বাড়লে বিদ্যুতের চাহিদা সাড়ে ১৮ হাজার মেগাওয়াটে পৌঁছাতে পারে। এটা ধরে নিয়ে চাহিদা পূরণের পরিকল্পনা করেছিল বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)। কিন্তু জ্বালানি সংকটের কারণে ১৫ হাজার মেগাওয়াটের সক্ষমতাও স্পর্শ করতে পারছে না বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো। মাঝারি গরমের মধ্যেই এখন বিদ্যুতের ঘাটতি থেকে যাচ্ছে ১ হাজার মেগাওয়াট।

 

 


খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এপ্রিলের শুরু থেকেই গ্রাম কিংবা শহরে বারবার লোডশেডিং শুরু হয়েছে। শহরে ভোগান্তির চিত্র তুলনামূলক কম হলেও গ্রামে দিনে অন্তত দু-তিনবার বিদ্যুতের আসা-যাওয়া নিত্য ঘটনায় পরিণত হয়েছে।


অবৈধ বাস টার্মিনাল বাড়াচ্ছে যানজট - দৈনিক কালের কণ্ঠে প্রকাশিত সংবাদ এটি। 


প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, রাজধানী ঢাকার ভেতরে অনুমোদনহীন অস্থায়ী ১২টি আন্ত জেলা বাস টার্মিনালও মহানগরীতে বাড়াচ্ছে যানজট। ঢাকার বাইরের বিভিন্ন জেলায় চলাচলকারী বাসগুলো নগরীর ভেতরে এসব টার্মিনালে থামিয়ে যাত্রী ওঠানো ও নামানো হয়।


 

 


বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) সূত্রে জানা গেছে, ঢাকার সড়কে চলাচলকারী যানবাহনের প্রায় ২৩ শতাংশই আন্ত জেলা ও শহরতলির। জানা গেছে, মহানগরীর ভেতরে রয়েছে প্রায় ৪০ শতাংশ বাসের কাউন্টার।

 

আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধকরণ বিলে যা থাকছে - দৈনিক মানবজমিনের প্রধান সংবাদ এটি। 


প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২৪-এর গণ-আন্দোলনে বলপ্রয়োগ ও গণহত্যা চালানোর অভিযোগে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে অধ্যাদেশ জারি হয়েছিল অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে। সন্ত্রাসবিরোধী ওই অধ্যাদেশে বলা হয়েছিল- বিচার কার্যক্রম শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত দলটির কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা থাকবে। এই নিষেধাজ্ঞা বহাল রেখেই অধ্যাদেশটি আইনে পরিণত হচ্ছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের যেসব আইনে পরিণত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে এর মধ্যে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের অধ্যাদেশটিও রয়েছে। 

 

 

 

অধ্যাদেশে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে কি ধরনের শাস্তি হতে পারে তা উল্লেখ না করলেও আইনে তা স্পষ্ট করে দেয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। এক্ষেত্রে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে বিদ্যমান শাস্তির কাঠামোই এখানে বিবেচনা করা হচ্ছে। সন্ত্রাসবিরোধী আইনে বলা হয়েছে, নিষিদ্ধ সংগঠন কার্যক্রম পরিচালনা করলে চার থেকে ১৪ বছর কারাদণ্ড হতে পারে। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের করা অধ্যাদেশে কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন সভা-সমাবেশ করলে কী শাস্তি হবে তা উল্লেখ করা হয়নি। 

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন