অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান, ১০ দফা পরিকল্পনা দিলো ইরান

৬ দিন আগে
ইরান যুক্তরাষ্ট্রের দেয়া একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে এবং এর পরিবর্তে যুদ্ধের স্থায়ী সমাপ্তি দাবিতে ১০ দফা পরিকল্পনা জমা দিয়েছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ’র তথ্য অনুযায়ী, দুই সপ্তাহের উচ্চপর্যায়ের অভ্যন্তরীণ আলোচনা শেষে পাকিস্তানের মাধ্যমে এই জবাব পাঠানো হয়।

 

স্থায়ী সমাধানের দাবি

 

ইরান তার প্রস্তাবে স্বল্পমেয়াদি যুদ্ধবিরতির ধারণাটি নাকচ করে দিয়েছে এবং এর কারণ হিসেবে ‘পূর্ববর্তী অভিজ্ঞতার’ কথা উল্লেখ করেছে, যা তাদের মতে অস্থায়ী চুক্তিগুলোকে দুর্বল করে দেয়। এর পরিবর্তে তেহরান তাদের কৌশলগত অগ্রাধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি পূর্ণাঙ্গ সমাধান চাইছে।

 

কর্মকর্তারা জোর দিয়ে বলেছেন, কেবল সাময়িক বিরতি নয়, যেকোনো সমাধান অবশ্যই সংঘাতের স্থায়ী অবসান নিশ্চিত করতে হবে।

 

মূল দাবিগুলোর রূপরেখা

 

১০ দফা পরিকল্পনায় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা সম্পূর্ণ প্রত্যাহার এবং বৈশ্বিক জ্বালানি পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালীতে নিরাপদ নৌ চলাচলের নিশ্চয়তা।

 

এছাড়া বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতের অবসান এবং যুদ্ধ-পরবর্তী পুনর্গঠনের বিষয়ও এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। 

 

আরও পড়ুন: বাব আল-মান্দেব প্রণালীও কি এবার বন্ধ করে দেবে ইরান?

 

সামরিক প্রেক্ষাপট

 

পশ্চিম ও মধ্য ইরানে সাম্প্রতিক সামরিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে এই প্রস্তাব এসেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্রের একটি অভিযান ব্যর্থ হওয়ার পর তেহরান এখন ‘উচ্চ অবস্থানে’ রয়েছে।

 

যদিও এসব দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি, তবুও এটি আলোচনায় ইরানের অবস্থান শক্তিশালী করার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

 

যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানে পরিবর্তন

 

প্রতিবেদনে ওয়াশিংটনের দৃষ্টিভঙ্গিতে একটি পরিবর্তনের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে এবং বলা হয়েছে যে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প পূর্বের সময়সীমা বাড়িয়েছেন এবং আগের হুমকিগুলো থেকে সরে এসেছেন বলেই মনে হচ্ছে। 

 

আরও পড়ুন: ইসরাইলে একযোগে ইরান, হিজবুল্লাহ ও হুতির হামলা!

 

এরপর কী

 

এখন সবার নজর ওয়াশিংটনের প্রতিক্রিয়া এবং প্রস্তাবটির সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীদের ভূমিকার দিকে। আগামী দিনগুলোই সম্ভবত নির্ধারণ করবে যে কূটনৈতিক পথগুলো গতি পাবে, নাকি সংঘাত আরও বাড়তে থাকবে।

 

সূত্র: রয়া নিউজ

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন