অস্ট্রেলিয়ার ‘সেফ হাউসে’ ইরানের পাঁচ ফুটবলার

২ দিন আগে
অস্ট্রেলিয়ায় চলমান উইমেন্স এশিয়া কাপে তিন ম্যাচের সবগুলোতেই হেরে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছে ইরান। টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যাওয়ার পর দেশে ফিরতে চাওয়া ইরানের ফুটবলারদের নিরাপত্তা নিয়ে তৈরি হয়েছে উদ্বেগ। বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, ইরান দলের পাঁচ ফুটবলার অস্ট্রেলিয়ার একটি সেফ হাউসে আশ্রয় নিয়েছে।

‘এ’ গ্রুপে রোববার (৮ মার্চ) ফিলিপিনসের বিপক্ষে ২-০ গোলের হার দিয়ে এশিয়ান কাপের এবারের আসর শেষ করে ইরান। এরপর দলটির দেশে ফিরে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু গত সপ্তাহে দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে তাদের প্রথম ম্যাচের আগে ইরানের খেলোয়াড়রা জাতীয় সঙ্গীত গাইতে অস্বীকৃতি জানানোর পর দেশটিতে সমালোচনা শুরু হয়। এক টেলিভিশন উপস্থাপক দলটিকে ‘যুদ্ধকালীন বিশ্বাসঘাতক’ বলে অভিহিত করেন, সেইসঙ্গে তাদের কঠোর শাস্তির দাবি জানান। 

 

এ ঘটনায় ইরানের ফুটবলারদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করছেন সমর্থকরা। রোববার গোল্ড কোস্টে স্টেডিয়াম থেকে বের হওয়ার সময় ইরানের টিম বাসকে ঘিরে ধরে শত শত সমর্থক। ‘আমাদের মেয়েদের বাঁচাও’ বলে স্লোগান দিতে থাকেন তারা। 

 

সোমবার (৯ মার্চ) বিবিসির খবরে বলা হয়, টিম হোটেলের ভেতর নাটকীয় দৃশ্য প্রত্যক্ষ করেছে তারা। বেশ কয়েকজন খেলোয়াড় ‘অ্যাক্টিভিস্ট’দের সঙ্গে কথা বলার পর দলবদ্ধভাবে লবি থেকে বেরিয়ে আসেন। তারা চলে যাওয়ার কিছুক্ষণ পরই কোচসহ আরেক গ্রুপ আতঙ্কিত হয়ে হোটেলের মধ্য দিয়ে ছুটে তাদের কক্ষে ফিরে যায়। 

 

আরও পড়ুন: বিশ্বকাপের প্লে-অফ স্থগিত করার অনুরোধ ইরাকের

 

এরপর দ্বিতীয় ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ও শেষ ম্যাচে ফিলিপিন্সের বিপক্ষে জাতীয় সঙ্গীত গায় এবং স্যালুট করেন ইরানের খেলোয়াড়রা। অনেকের ধারণা, ইরানি দলের প্রতিনিধি দলের অংশ হিসেবে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি, যারা ইরানের নিরাপত্তা বাহিনী ও অর্থনীতিকে নিয়ন্ত্রণ করে) সদস্যরা খেলোয়াড়দের জাতীয় সঙ্গীত গাইতে ও স্যালুট করতে বাধ্য করেছে। 

 

সিডনিতে সোমবার (৯ মার্চ) ইরানি দলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ফিফা, এএফসি ও অস্ট্রেলিয়ান সরকারের প্রতি আহ্বান জানান বিশ্বব্যাপী খেলোয়াড়দের সংগঠন ফিফপ্রোর এশিয়া/ওশেনিয়া অঞ্চলের সভাপতি বিউ বুশ। 

 

তিনি বলেন, ‘আমরা (অস্ট্রেলিয়ান সরকারকে) বলছি, যেন খেলোয়াড়দের (নিরাপত্তা) নিয়ে কাজ করা হয়। এটা সত্যিই কঠিন পরিস্থিতি। এমন খেলোয়াড় থাকতে পারে, যারা ফিরে যেতে চায়। দলের মধ্যে এমন কিছু খেলোয়াড় থাকতে পারে, যারা আশ্রয় পেতে চায় অথবা অস্ট্রেলিয়ায় আরও বেশি সময় থাকতে চায়। এমন কিছু খেলোয়াড় থাকতে পারে যারা সম্ভাব্য দেশে ফেরা নিয়ে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।’ 

 

আরও পড়ুন: ঋতু-মনিকাদের প্রশংসা করলেও বিভিন্ন ঘাটতি নিয়ে ক্ষোভ ঝাড়লেন বাটলার

 

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘ইরান দলকে দেশে ফিরতে দিয়ে অস্ট্রেলিয়া ‘ভয়াবহ মানবিক ভুল’ করছে। দলটির সদস্যদের আশ্রয় দিতে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান তিনি। 

 

‘ইরানের জাতীয় নারী ফুটবল দলকে জোরপূর্বক ইরানে ফেরত নেওয়ার অনুমতি দিয়ে অস্ট্রেলিয়া ভয়াবহ মানবিক ভুল করছে, সেখানে (ইরান) হয়তো তাদের হত্যা করা হবে। আপনি যদি তা না করেন (আশ্রয় না দেন), তাহলে যুক্তরাষ্ট্র তাদের নিয়ে যাবে।’ 

 

অস্ট্রেলিয়ার পুরুষ ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক ক্রেগ ফস্টার বিবিসিকে বলেন, ‘যখন কোনও দল ফিফা-নিয়ন্ত্রিত কোনও টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করে, তা এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন হোক বা অন্য কোনও কনফেডারেশন; তখন অবশ্যই বর্তমানে বা ভবিষ্যতে তাদের নিরাপত্তা নিয়ে যে-কোনও উদ্বেগ প্রকাশ করার জন্য নিরাপত্তা এবং বহিরাগত সহায়তা পাওয়ার অধিকার থাকতে হবে।’

 

গত সপ্তাহে ইরানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল। এরপর মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি দেশে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা চালায় ইরান। তারপর থেকে মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি দেশের আকাশসীমা বন্ধ রয়েছে।

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন