সোমবার (৬ এপ্রিল) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সকাল ৯টা পেরিয়ে গেলেও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কক্ষ ছাড়া খোলা নেই কোনো অফিস। সাড়ে ৯টা থেকে অফিস খোলা শুরু হলেও প্রায় ১১টা পর্যন্ত উপজেলা সমাজ সেবা, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা, উপজেলা তথ্য আপা, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা, উপজেলা পাট উন্নয়ন কর্মকর্তা, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা, উপআনুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোসহ বেশিরভাগ কর্মকর্তাই দফতরে অনুপস্থিত।
কর্মকর্তার পাশাপাশি অফিস পিয়ন ছাড়া নেই অন্য কোনো অফিস স্টাফ। খালি পড়ে আছে তাদের চেয়ার। স্থানীয়দের অভিযোগ, গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার প্রতিদিনের চিত্র এটি।
সকাল ১০টার কিছু আগে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, অফিসের এক কোণে বসে আছেন অফিস সহকারী শ্রী সবুজ চন্দ্র রায়। অফিসে নেই উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা এস.এম.আবু মোতালেব ও উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আব্দুল হাদীসহ অন্য কেউ।
জানতে চাইলে শ্রী সবুজ চন্দ্র রায় জানান, কর্মকর্তারা গতকাল অফিস থেকে দেরি করে গেছেন। সে কারণে হয়তো দেরি হচ্ছে ।
একই অবস্থা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়ের। সকাল ৯টা ৩৮ মিনিটে অফিসের তালা খুলতে দেয়া যায় অফিস সহায়ক মো. রেজাউল ইসলামকে। জানতে চাইলে রাস্তায় দেরি হয়েছে বলে জানান তিনি। অফিসের অন্য কর্মকর্তাদের না থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানেন না বলে উত্তর দেন।
সকাল ১০টা ৫৭ মিনিটেও ফাঁকা উপজেলা হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা মো. আহসান হাবীব সরকার ও সুপারেন্টেন্ড মো. লুৎফর রহমানসহ দুই অডিটরের চেয়ার। অপেক্ষমাণ চেয়ারে বসা এক শিশুসহ দুই নারী সেবা প্রত্যাশী।
জানতে চাইলে ৯টা ৩২ মিনিটে অফিসে আসা অডিটর মো. সাদেকুল ইসলাম জানান, নির্বাচন অফিসের বিল করার জন্য বাইরে ছিলেন তিনি। কিন্তু ‘কর্মকর্তাদের না আসার ব্যাপারে কিছু জানা নেই তার।’
আরও পড়ুন: ‘স্যার’ নয়, ‘ভাইয়া’ বললে ভালো লাগবে: তারেক রহমান
আর দুপুর ১২টা পর্যন্ত পাট উন্নয়ন অফিস, উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের অফিস, উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার, সহকারী পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা ও বিআরডিবিসহ বেশ কয়েকটি অফিসে ঝুলতে দেখা যায় তালা। কর্মকর্তা তো দূরের কথা, নেই অফিস পিয়নও।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এ চিত্র প্রতিদিনের। সকাল ৯টা থেকে অফিস শুরু হয়ে নতুন নিয়মে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলার কথা থাকলেও অধিকাংশ কর্মকর্তা-কর্মচারী সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বেলা ১১টার আগে অফিসে আসেন না। তাও আবার অনিয়মিত। আবার চলেও যান বেলা আড়াইটা থেকে তিনটার মধ্যেই। আবার বেশ কয়েকজন কর্মকর্তাসহ অফিস স্টাফ আসেন সপ্তাহে দু-এক দিন।
কর্মকর্তাদের এমন মনগড়া অফিস পরিচালনায় বিপাকে পড়েছেন চরবেষ্টিত এ উপজেলার মানুষ। উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের মধ্যে ৬টি ইউনিয়ন চর ও নদী বেষ্টিত হওয়ায় নৌকাসহ দুর্গম পথ পেরিয়ে এসব কার্যালয়ে আসেন তারা। তবে দিনের পর দিন ঘুরেও প্রয়োজনীয় কাজ করতে না পেরে দুর্ভোগে পড়েছেন তারা।
কালির বাজার এলাকার কাজল মিয়া জানান, অফিসারদের এমন আসা আজ নতুন নয়। প্রতিদিন তারা এভাবেই আসেন। একটি কাজের জন্য তাদের একাধিক দিন অফিসে ঘুরতে হয়।
পুরাতন ফুলছড়ি এলাকার সাইফুল ইসলাম জানান, উপজেলার অধিকাংশ মানুষ বিভিন্ন দুর্গম চরে বসবাস করেন। নদী পেরিয়ে ও পা হেঁটে জরুরি কাজে এসে দিনের পর দিন ঘুরে তাদের হয়রানি হতে হয়। সরকারের কঠোর নির্দেশ থাকলেও তা এখানে বাস্তবায়ন হচ্ছে না।
এদিকে, সময় সংবাদের উপস্থিতি শুনে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা এস এম আবু মোতালেব, এলজিইডির উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. এস্তামুল হক, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়ের হিসাব রক্ষক মো. রোকন মিয়াসহ কয়েকজন কর্মকর্তা তড়িঘড়ি করে আসেন অফিসে। দেরিতে আসার বিষয়ে জানতে চাইলে জানান বিভিন্ন অজুহাত।
আরও পড়ুন: ‘স্যার’ না বলায় ফোন কেটে দিলেন এসিল্যান্ড!
ফুলছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, অফিস না আসা বা দেরি করে আসার কোনো সুযোগ নেই। বিভিন্ন মাধ্যমে এ রকম অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। খোঁজ নিয়ে সংশ্লিষ্ট দফতরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লা বলেন, ‘কর্মস্থলে সঠিক সময়ে না আসা শৃঙ্খলা পরিপন্থি কাজ। জনগণ সেবা থেকে বঞ্চিত হয় কিংবা জনভোগান্তি হয় এটি কোনোভাবেই মেনে নেয়া হবে না। সরকার নির্ধারিত সময়ে সবাইকে অফিসে থেকে জনগণকে সেবা দিতে হবে। এর ব্যত্যয় হলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
চরাঞ্চলের ৬টিসহ ব্রহ্মপুত্র নদী তীরের ৭টি ইউনিয়ন নিয়ে এ উপজেলা গঠিত ।

২ ঘন্টা আগে
১







Bengali (BD) ·
English (US) ·